আহত বাছুরের পিছনে চিন্তায় আকুল হয়ে ছুটে চলেছে মা গরু, একেই বলে মাতৃস্নেহ

আমাদের জীবনের এখন এক অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে মুঠোফোন। আর এই মুঠোফোনের দুনিয়ায় মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এখন কমবেশি আট থেকে আশি সবাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে।

সেইসাথে লকডাউন চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়েছে অনেক গুণে। মানুষ তার সময় অতিবাহিত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই তাদের নাচ গানের ভিডিও করে পোস্ট করে। কিছু সময় অবাক করা কিছু মনমুগ্ধকর অথচ হাসির ভিডিও আমাদের সামনে আসে।

পৃথিবীর কোন ভালোবাসার কাছে মাতৃস্নেহের তুলনা করা হয়তো ভুল হবে। মাতৃস্নেহ অফার মমতাময়ী এবং অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। পৃথিবীতে কোন কিছুকে হয়তো তার মায়ের থেকে কেউ বেশি ভালবাসতে পারে না।

একজন মা নিজের স্নেহের মাধ্যমে তার সন্তানকে বড় করে তোলেন। সন্তানের বড় হওয়ার ক্ষেত্রে বাবার অবদান থাকলেও, সবথেকে বেশি অবদান হয়তো মায়ের থাকে।

মাকে ছাড়া কোনো সংসার সম্পূর্ণ হয় না। একজন মানুষ যখন সবথেকে খুশি থাকে তখন তার মাকে খুঁজে, আমার যখন সবথেকে দুঃখে থাকে তখনও তার মাকে খুঁজে। পাশাপাশি মানুষের কষ্ট সব থেকে বেশি আগে লক্ষ্য করে তার মা।

তবে শুধুমাত্র মানুষ কেন, দুনিয়ার প্রত্যেকটি প্রাণীর ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম কাজ করে। অবলা সব প্রাণীর ক্ষেত্রে মায়ের স্নেহ একেবারে খাঁটি একটি জিনিস। এই জিনিসটি ছাড়া পৃথিবীর কিছুই যেন ঠিক থাকে না।

সন্তানের কোনো আঘাত লাগলে মায়ের মন সবার আগে কেদে ওঠে। সে মানুষ হোক বা কোনো জীব জন্তু, সবার ক্ষেত্রেই এটা লক্ষিত হয়।

সম্প্রতি এর একটি উদাহরণ সোশাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে। ভিডিওটি আপনি দেখলে আপনিও চোখের জল আটকে রাখতে পারবেন না।

ভিডিও থেকে জানা যাচ্ছে, একটি গাড়ির ধাক্কায় একটি বাছুর বেশ ভালোমত আহত হয়েছে। এবং তার মা অর্থাৎ সেই গরুটি তার জন্য চিন্তায় আছে। ভিডিওটি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার একটি জায়গায়।

সেখানে একটি মা গরু তার বাছুরের জন্য চিন্তায় আকুল। সেই বাছুরটি গাড়ির ধাক্কায় বেশ আহত হয়েছে। আহত হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় মানুষেরা তড়িঘড়ি সেই বাছুরকে ভ্যানে তুলে স্থানীয় পশু হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিজের সন্তানকে ওভাবে দেখে সত্যিই চিন্তিত মা গরু। এই গরু যখনই দেখতে পায় তার সন্তানের এরকম অবস্থা, তখনই সে সেই ভ্যানের পিছু নেওয়া শুরু করে।

ভ্যানের গতি বাড়তে শুরু করলে মা গরুও তার হাঁটার গতি বাড়িয়ে ফেলে। এভাবে সে অতিক্রম করে ৩ কিলোমিটার রাস্তা।

নেটিজেনদের কাছে এই ভিডিও বেশ মজাদার ভিডিও হিসাবে উঠে এসেছে। নেটিজেনরা প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই ভিডিও কমেন্ট বক্সে। পাশাপাশি তারা ওই বাছুরের সুস্থতা কামনা করেছেন ভগবানের কাছে।

আমরা জানতে পেরেছি, এই বাছুরটি খুব শীঘ্রই আবারো সুস্থ হবে। ডাক্তাররা চেষ্টা চালাচ্ছেন এই বাছুরকে সুস্থ করার। মানুষের মধ্যে এরকম ভালোবাসা থাকার নিদর্শন আমরা আকছার পাই। কিন্তু এরকম অবলা প্রাণীদের মধ্যে এরকম একটা মাতৃস্নেহের ভিডিও খুব কমই পাওয়া যায়। সূত্রঃ এখন ভারত