আমি যখন দেশে ফিরি তখন থাকার ঘরও ছিল নাঃ প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য সব পরিকল্পনা করেছিলেন। সে কারণে ১৯৭৫ সালে আমাদের পুরো পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শুধু আমি আর আমার ছোট বোন সেসময় বিদেশে ছিলাম সে কারণে বেঁচে গিয়েছিলাম। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর দেশে আসতে পারিনি। কারণ সে সময় যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল বিশেষ করে জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতা দখল করে তখন থেকে দেশে আসতেই দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ কি পেয়েছে অনেকে গাল ভরে কথা বলে গণতান্ত্রিক অধিকার পেয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকারটা কি? একটা সামরিক শাসকের ক্ষমতা দখল করে একদিন ঘোষণা দিল যে আজকে আমি রাষ্ট্রপতি হলাম, আর তারপরেও সেটা গণতন্ত্র হয়ে গেল?

আজ শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি আমার ছোট বোনের পাসপোর্ট পর্যন্ত রিনিউ করতে দেয় নাই, যাতে পাসপোর্ট নিয়ে সে আসতে না পারে। এই অবস্থায় আমাদের ৬ বছর কাটাতে হয় বাইরে। এরপর আমাদের আওয়ামী লীগ আমার অবর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব দেয়, শুধু মানুষের কথা ভেবে মানুষের শক্তি নিয়েই দেশে ফিরি। আমার কেউ ছিল না, আমার কোন থাকার ঘরও নাই। আমি কোথায় গিয়ে উঠবো তাও আমি জানি না। আমি কিভাবে চলব তাও আমি জানি না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ফিরে আমি কখনো আমার ছোট ফুফুর বাড়ি কখনো মেঝো ফুফুর বাড়ি এরকমভাবে দিন কাটাই। কিন্তু আমার লক্ষ্য একটাই সামনে ছিল যে আমি কি পেলাম না পেলাম সেটা বড় কথা নয় কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কতটুক কি করব। সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরে মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখেছি। জাতির পিতা তো সব পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।

জাতির পিতা একটা কথাই বলেছিলেন আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায় বস্ত্র পায় উন্নত জীবন পায়। বঙ্গবন্ধু যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সেটা যদি বাস্তবায়ন করতে পারতেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষ বহু আগেই উন্নত জীবন পেত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যখনই তিনি পরিকল্পনা নিলেন তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করল। আর সেই হত্যা শুধু একজন নয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে হত্যা করেছে সেই সাথে আমার মেঝো ফুফু, সেঝো ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করেছে ছোট ফুফুর বাড়ির প্রত্যেকটা পরিবারের সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এরপর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ নেতা হত্যা। সূত্রঃ বার্তা২৪