বাংলাদেশি ২০ জেলেকে পিটিয়ে ছেড়ে দিল মিয়ানমার

বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের অদূর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি ২০ জেলেকে মারধর করে ৯ ঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী।

গতকাল বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাতে ২০ জেলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া ঘাটে ফিরে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন।

ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, সেন্টমার্টিনের অদূরে গলাচিপা নামক এলাকায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ৪টি ট্রলারে মাছ শিকার করতে যায় ২০ জন জেলে। পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ মিয়ানমারের নৌ-বাহিনী এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর ৯ ঘন্টা তাদের আটকে রেখে মারধর করে। এছাড়াও তাদের ৩টি মাছ ধরার জাল নিয়ে নেয়। পরে বিকেল ৫ টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ঘাটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর বলেন, মিয়ানমারের নৌ বাহিনী ধরে নিয়ে যাওয়া ৪টি ট্রলারসহ ২০ জন জেলে সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ঘাটে ফিরে আসে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ২০ জন জেলেই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা। তারা বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনে উপকূলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

টেকনাফে অবস্থিত ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কেউ অবহিত করেনি। পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি ২০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। এরপর শাহপরীর দ্বীপের ঘাট এলাকার জেলেদের সভাপতি জানিয়েছে বুধবার সন্ধ্যায় ধরে নিয়ে যাওয়ার জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমার। এখন ২০ জন জেলে সবাই তাদের স্ব-স্ব বাড়িতে অবস্থান করছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মুঠোফোনে কথা হয় ফেরত আসা শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়ার জেলে শামসু আলম (৩৯) এর সাথে। তিনি বলেন, গলাচিপা এলাকায় মাছ শিকারকালীন হঠাৎ কুয়াশার মধ্যে মিয়ানমারের নৌ বাহিনী এসে আমাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে আমাদেরকে খুব বেশি মারধর করেছে এবং জালগুলো নিয়ে নিয়েছে। এরপর বিকেল ৫টার দিকে ছেড়ে দেয়। তবে আমরা সবাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই মাছ শিকার করছিলাম।