দেশে ফিরেই বাবার কবর জিয়ারত করলেন সিরাজ

ব্রিসবেন টেস্ট জিতে নিয়েছে ভারত। সাথে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। চতুর্থ টেস্টের শেষ ইনিংসে রিশাব পান্তের ৮৯ রানের ইনিংস সব আলো কেড়ে নিয়েছে। আধারে পড়ে গেছে মোহাম্মদ সিরাজের ৫ উইকেট। অথচ এই সিরাজই আসল কাজটি করে দিয়েছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারী) সকালেই দিল্লিতে ফিরেছে টিম ভারত। সিরাজের ভাবনায় তো শুধু একটা মানুষই। দিল্লি থেকেই সরাসরি হায়দরাবাদে ছুটে গেলেন, বাবার কবরটা জিয়ারত করলেন সবার আগে।

বাবা, মাথার ওপর ছায়া। যার নেই সেই জানে, সেই ছায়া হারানোর বেদনা। মোহাম্মদ সিরাজের সেই বেদনাটা আরও বেশি। যেই বাবা স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে বড় ক্রিকেটার হবে। সেই বাবাকেই যে শেষবারের মতো দেখতে পেলেন না সিরাজ।

সিরাজের বাবা ছিলেন গরিব অটো-চালক। সিরাজের বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় ক্রিকেটার হবে, ভারতের হয়ে খেলবে। সেই স্বপ্নের পথ খুঁজে দিতে প্রতিদিন বাবা ৭০ টাকা করে দিতেন সিরাজকে। প্র্যাকটিসে যেতে-আসতে খরচ হতো ৬০ টাকা। কি কষ্টের ছিল সিরাজের সেই দিনগুলো।

অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের স্কোয়াডে ছিলেন বদলি বোলার হিসাবে। সুযোগ হয়তো না-ও মিলতে পারতো। কিন্তু বাবার দোয়া তো সঙ্গেই ছিল, দলের সিনিয়র বোলারদের একের পর এক ইনজুরিতে সিরাজের কপাল খুলল।

এদিকে ঘটে গেল আরেক ঘটনা। যেই বাবার স্বপ্নপূরণ করে টেস্টের সাদা জার্সিটা গায়ে জড়ালেন, সেই বাবার মৃত্যু সংবাদ সিরাজ পেলেন অস্ট্রেলিয়াতে বসেই। সিরাজ বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পারলেন না। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরুর সময় মাঠে যখন জাতীয় সংগীত বাজছিল, চোখের জল আর বাধ মানেনি। বাবা নেই, ভাবতেই বারবার বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠছিল সিরাজের।

কিন্তু সিরাজ সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে নিলেন। দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন। ব্রিসবেনে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টে তো ৫ উইকেটও নিলেন। যে টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অসাধ্য সাধন করল ভারত, সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসল, ভাসাল পুরো জাতিকে।

উল্লেখ্য, সাফল্যের এই দিনটা দেখলে বাবা কত খুশি হতেন, দুই হাত উঁচু করে দোয়া ধরতে গিয়েও সিরাজের দুই চোখ ছলছল করে ওঠলো। মনের অজান্তেই সিরাজ হয়তো বলে ওঠলেন- দেখো, আমি পেরেছি বাবা, আমি পেরেছি।