কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হল বীর বাঙালি ভাস্কর্য

বগুড়ায় মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ভাস্কর্য ‘বীর বাঙালি’ সংস্কারের নামে বিকৃত আদলে তৈরির প্রতিবাদে সেটি কালো কাপড়ে ঢেকে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষরা। বিজয়ের এই মাসে দ্রুত তা অপসারণ করে আগের ভাস্কর্য প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

গতকাল বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ভাস্কর্যটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষরা কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন।

গত আশির দশকে ভাস্কর সুলতানুল ইসলাম নির্মাণ করেন ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ভাস্কর্যটি। নিজ জেলা বগুড়ায় মুক্তিযুদ্ধের এই ভাস্কর্য স্থাপন করতে চাইলেও তা স্থাপনের আগেই তাকে চলে আসতে হয় ঢাকায়। ভাস্কর্যটি পরে থাকে বিসিক শিল্পনগরি এলাকায় সুলতানের বাবার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে।

১৯৯১ সালে স্থানীয় ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হস্তক্ষেপে সেটি স্থাপন করা হয় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায়। ভাস্কর্যটির নামকরণ করা হয় ‘বীর বাঙালি’। ভাস্কর্যটি ছিলো ধূসর বর্ণের এক যুবকের হাতে শান্তির পায়রা, খালি পায়ে, খালি গায়ে, কাঁধে রাইফেল নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি।

১৯৯৩ সালে রাতের আঁধারে স্বাধীনতা বিরোধীরা ভেঙে ফেলে ভাস্কর্যটি। ভাস্কর সুলতানুল ইসলাম সেসময় প্রবাসে অবস্থান করায় স্থানীয় শিল্পী আমিনুল হক দুলাল সেটি সংস্কার করেন। ২০০২ সালে জোট সরকারের আমলে যখন শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত করা হয় তখন ভাস্কর্য ‘বীর বাঙালি’ সাতমাথা থেকে মূল শহর থেকে বের করে প্রবেশদ্বারে স্থাপন করে পৌর কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সালে আবারো ক্ষতিগ্রস্থ হয় ভাস্কর্যটি। যদিও পুলিশের দাবি সেটি ছিলো দুর্ঘটনা। কিন্তু ১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর সকালে হাত ভাঙ্গা ভাস্কর্যটিকে মুখ থুবরে পরে থাকতে দেখা যায়। তৃতীয় দফা এটি ভাঙার পর ‘রাজমিস্ত্রি’ দিয়ে রাতারাতি তৈরি করে শহরের প্রবেশদ্বার বনানীতে প্রতিস্থাপন করে বগুড়া পৌর কর্তৃপক্ষ।

বীর বাঙালির রুপ নেয় বিকৃত। খালি পায়ের স্থলে যোগ হলো কালো বুট, খালি মুখে যোগ হয় মোছোয়াল, রাইফেলে যোগ হয় কালো বেল্ট, হাতে শান্তির পায়রার বদলে উঠে হাঁস। রাজমিস্ত্রি দিয়ে তৈরি ভাস্কর্যটি দেখতে অবিকল পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের মতো হলেও তিন বছর সেভাবেই রাখা হয়। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।