বরিশালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দিপাবলী উৎসব অনুষ্ঠিত

বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দিপাবলী উৎসব। অন্যান্য বছর ব্যাপক সমারোহে দিপাবলী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবার করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে উৎসবের আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। সংক্ষিপ্ত বলা হলেও ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় পুর্নার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিকেল থেকে হাজার হাজার পুর্নার্থীর ঢল নামে নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে। প্রিয়জনের সমাধিতে দ্বীপ জ্বেলে, পছন্দের খাবার সাঁজিয়ে রেখে চন্ডিপাঠ সহ প্রার্থনা করেন প্রয়াতের স্বজনরা।

প্রতি বছর কালি পূঁজার আগের দিন ভূত চর্তুদশীর পূণ্য তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে দীপ জ্বেলে, চন্ডি পাঠ করে এবং তাদের পছন্দের খাবার প্রদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনার অনুষ্ঠান পরিণত হয় উৎসবে। সনাতন ধর্মাবলিম্বরা ছাড়াও অন্যান্য ধমের হাজারো মানুষ দেখতে যান দিপাবলী উৎসব। এতে দিপাবলী অনুষ্ঠান পরিনত হয় সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার পর এবারের লগ্ন শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে মহাশ্মশানমুখি হতে শুরু করেন পুর্নার্থীরা। বিকেলের পর থেকে ঢল নামে মহাশ্মশানে। সন্ধ্যার পর পুরো মহাশ্মশানে নজরকারা আলোকসজ্জা সবাইকে বিমুগ্ধ করে। এতে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃস্টি হয়।

মহাশ্মশানে আসা মানিক আচার্য বলেন, এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে পুন্যার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তারপরও হাজার হাজার পুর্নার্থী এসেছেন প্রিয়জনের সমাধিতে দ্বীপ জ্বালাতে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার কর্তৃপক্ষের বিধি নিষেধের কারণে পুর্নার্থীরাও আগের চেয়ে অনেক সতর্ক এবং সচেতন।

বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, ভারত উপমহাদেশে এত বড় মহাশ্মশান এবং এত বর্নিল দিপাবলী উৎসব আর কোথাও হয় না। কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কম সংখ্যক লোকজন আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। যারা আসছে তাদের জন্য মহাশ্মশানের গেটে হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাস্ক ব্যতিত কাউকে মহাশ্মশানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। যারা মাস্ক ব্যতিত আসছেন তাদের মহাশ্মশানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে।

মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জী বলেন, অন্যান্য বছর দিপাবলী উৎসবে এক থেকে দেড় লাখের মতো লোক সমাগম হতো দিপাবলী উৎসবে। এবার ৫০ হাজারের বেশি পুন্যার্থী হবে না। দেশের বাইরের পুন্যার্থীরা এবার আসেনি। শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিপাবলীর লগ্ন শনিবার দুপুর ২টায় শেষ হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে দিপাবলী উৎসব শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্ন করতে নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশান এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এছাড়া সাদা পোষাকী পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাবের সমন্বয়ে শ্মশান দিপাবলী উৎসবে আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম। নগরীর কাউনিয়ায় প্রায় ৬ একর জমির উপর গড়ে ওঠা মহাশ্মশানে প্রায় ৬১ হাজার সমাধি রয়েছে।