টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধনে, স্বাধীনতা হারাবে বিটিআরসি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। আইনের খসড়ায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বিষয়ে বিদ্যমান ‘একটি স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠা’ শব্দগুলোর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘সরকারের একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা’। ‘সংবিধিবদ্ধ সংস্থা’ শব্দ দুটি বাদ দিয়ে লেখা হয়েছে ‘সরকারের একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা’। এতে স্বাধীন কমিশন বিটিআরসি তার স্বাধীনতা হারাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিটিআরসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা খর্ব করা হতে পারে। অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে বিটিআরসি। এ খাতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এক ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আইন সংশোধন হলে তাদের বিনিয়োগ অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে কর্তৃত্ব বদলের জন্য আইন সংশোধন টেলিযোগাযোগ খাতে সুফল বয়ে আনবে না বরং নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।

২০০১ সালে প্রণীত টেলিযোগাযোগ আইনে বিটিআরসিকে একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী বিটিআরসি সরকারের অধীন হলেও একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমি মনে করি বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের যুগে আইন সংশোধন হলে ২০২০ এবং পরবর্তী সময়ের কথা বিবেচনা করে প্রযুক্তি পরিবর্তন এবং তার সঙ্গে প্রজন্মের চাহিদার সমন্বয় করে আইনে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান আইনে কোনো দুর্বল দিক থাকলে তাও সময়ের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সময়ের প্রয়োজনেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইন সংশোধন হলে বিটিআরসি ধ্বংস হবে না বরং আরো স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে। এ আইনের সংশোধনের উদ্যোগ একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এখনও বহু প্রক্রিয়া বাকি। এমনকি মন্ত্রণালয়েও আইনটি আসেনি। অতএব, এ আইন নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।