কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ ভারতের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তার ওই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। খবর এনডিটিভির।

সূত্রে জানাগেছে, জাতিসংঘে তুরস্কের ওই বক্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত বলছে, তুরস্কের এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টা পরেই জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি টি এস তিরুমুর্তি এ বিষয়ে সমালোচনা করে টুইট করেছেন। তিনি ওই টুইট বার্তায় বলেন, তুরস্কের উচিত অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রাখা।

তিনি ওই টুইট বার্তায় আরও বলেন, আমরা জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনেছি। তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে যা, কখনওই মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, তুরস্কের উচিত অন্য দেশের নিজস্ব বিষয় ও তাদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা এবং তাদের নীতিমালাতেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত।

এদিকে জাতিসংঘের দু’দিনের ওই উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্টন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে হবে। এটা এখনও একটি প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এরদোয়ান আরও বলেন, দু’পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। কাশ্মীরের জনগণের জন্য এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে গত এক বছরে পাকিস্তানের মিত্র দেশ তুরস্ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে এনেছে। তবে বরাবরই ভারত বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে বলেছে যে, কাশ্মীর ইস্যু তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

গত সপ্তাহে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং অরগ্যানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (আইসি) নিন্দা করেছিল ভারত। সে সময় এই দেশগুলো মানবাধিকার কাউন্সিলে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলেছিল। ভারতের দাবি এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষযে হস্তক্ষেপ।

উল্লেখ্য, কাশ্মীর ইস্যুতে বহু বছর ধরেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখনও পর্যন্ত দু’দেশ এ বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এই উত্তেজনার মধ্যেই গত বছরের আগস্টে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ সুবিধা তুলে নেয় ভারত।