চট্টগ্রামের সেই লেডি গ্যাং লিডার সিমি পুলিশের হাতে আটক

চট্টগ্রামে আলোচিত সেই লেডি গ্যাং লিডার সিমি দুই সহযোগীসহ পুলিশের কব্জায়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ইপিজেড থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া। অপর লেডি গ্যাং লিডার অধরা আহমদকে বাসায় গিয়ে মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। মোহনা আক্তার নামে এক নারী ওই মামলা দায়ের করেন বলে জানান ওসি উৎপল বড়ুয়া। তিনি জানান, মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাকি দু‘জন হলেন-হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. শাখাওয়াত, বন্দর থানার ইস্ট কলোনী এলাকার আজিবুর রহমানের ছেলে মো. লামিম শাওন। এ মামলায় আরো ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, গ্যাং কালচার বিরোধের জের ধরে অধরা আহমেদ (২২) নামের এক তরুণীকে ২৪ আগস্ট তার বাসায় ঢুকে বেধড়ক মারধর করে কিশোরি লেডি গ্যাং লিডার সিমি গ্রুপের দল। মারধর ছাড়াও তারা ওই তরুণীর বুকের দিক থেকে জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে।

পরে হামলাকারীরাই মারধরের ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে। ইপিজেড থানার বন্দরটিলা কসাই গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অধরা জানান, অনলাইনে পরিচয়ের পর শাখাওয়াত নামের এক কিশোরের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং ওই কিশোরের অনৈতিক বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় লেডি গ্যাং লিডার সিমির নেতৃত্বে পাঁচ জন মিলে তার বাসায় হামলা করে।

এর মধ্যে সিমি ও শাখাওয়াত ছাড়া তানিয়া(১৭), শাওন(২২) ও আরেফিন(২২) নামে তিন জন রয়েছে। অভিযুক্ত শাখাওয়াতের বাসা আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকায়। তিনি জনৈক রফিকের সন্তান। তানিয়া পড়াশোনা করে নগরীর বন্দরটিলা সিটি করপোরেশন কলেজে। আর সিমরান সিমির বাসা নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায়।

অধরা জানান, তার গ্রামের বাড়ি খুলনা বাগেরহাটে। ৬ বছর আগে পিতা মারা গেছেন। এক ভাই ও মাকে নিয়ে এই বাসায় ভাড়া থাকেন। পাশেই বড় বোনের বাসা। ঘটনার সময় তার ভাই গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। আর মা ছিলেন বাইরে। ওই সময় ঘরে একাই ছিলেন অধরা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অধরা বলেন, ঘটনার দিন শাখাওয়াত কল করে তাকে নিচে নামতে বলেন। নিচে না যাওয়ায় তারা দুই তলার ওপর উঠে আসে। এ সময় সিমি প্রথমে তাকে মারধর শুরু করে। পরে শাখাওয়াতসহ অন্যরাও হামলায় অংশ নেয়।