বিদেশ নয়, দেশেই ছিলেন স্বাস্থ্যের আবজাল

অর্থআত্মসাৎ মামলার আসামি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আবজাল অস্ট্রেলিয়ায় নয়, ছিলেন ফরিদপুরের গ্রামের বাড়িতে। বুধবার আইনি সহায়তা চাইলে আদালতে আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। এক বছর দেশে আত্মগোপনে থাকার পর কেন গ্রেপ্তার করায় যায়নি-এমন প্রশ্নে দুদক বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা।

তবে অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুদকের দুর্বলতাই আবজালকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছে।

২০১৯ সালের ২৭ জুন বিপুল অর্থআত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আবজালের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। বলা হচ্ছিল অস্ট্রলিয়া পালিয়ে যাওয়ার কথা।

তবে এক বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থেকে বুধবার হঠাৎ করেই আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন তিনি। জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় এখন আছেন কারাগারে।

হঠাৎ করে কোথা থেকে উদয় হলেন তিনি-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আবজাল-রুবিনা দম্পত্তির উত্তরার বাসায় গিয়ে জানা যায়, গত বছর বাড়িটি ক্রোক করে দুদক। তারপর সেখান থেকে চলে যান তারা। তবে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রিপন জানান, বিদেশ যাননি আবজাল, ছিলেন দেশেই।

আর এ প্রসঙ্গে আবজালের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম জানান, ফরিদপুরের গ্রামের বাড়িতেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। বুধবারই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে চান আইনি সহায়তা। তার স্ত্রী রুবিনাও আত্মসমর্পন করবেন বলে জানান তিনি।

দেশে অবস্থানের পরও আবজালকে গ্রেপ্তার করা কেন যায়নি সে প্রশ্নে দুদকের সচিব দিলোয়ার বখত জানান, গত এক বছর তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে ছিলেন এখন খতিয়ে দেখছেন তারা।

তবে অপরাধ বিশ্লেষকরা জানান, দেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো যে শক্তিশালী নয়, দেশের থাকার পরও আবাজালকে ধরতে না পারা এর একটি বড় উদাহরণ।

ঢাকার উত্তরা, পল্লবী ও ফরিদপুরে আবজাল-রুবিনা দম্পত্তির ৬টি বাড়িসহ ২৫টি প্লট-জমি ক্রোক করেছে দুদক। এর সবই অবৈধ অর্থে গড়ে তোলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।