নেইমারের এবার নায়ক হওয়ার পালা

২০১৭ সালের আগস্টে যখন ট্রান্সফারের বিশ্বরেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যান, তখন নেইমারকে বড় প্রশ্ন ছিল- কেন এই দলবদল? যে জবাব তখন বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উচ্চারিত হয়েছিল, সেটি ছিল লিওনেল মেসির ছায়া থেকে বের হওয়া। বার্সেলোনায় থাকলে মেসির কীর্তি আর নামের আড়ালে পড়ে থাকতে হবে তাকে। কিন্তু পিএসজিতে গেলে ফরাসি লিগের প্রধান তারকার আলো পড়বে তার গায়ে। কাগজে-কলমে নেইমার তা হয়েছেনও। তবে খেলোয়াড়ি নৈপুণ্যে যেন আগের চেয়ে পিছিয়েই পড়ছিলেন। যে কারণে বারবার ফের বার্সায় ফেরার প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছে। তবে পিএসজিতে যাওয়ার তিন বছরের মাথায় নেইমার এখন সুসময়ের সর্বোচ্চ সীমায়। আগামীকাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে যদি বায়ার্নকে হারিয়ে পিএসজি তাদের প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা জিততে পারে, তবে ক্লাব ইতিহাসেরই শুধু অংশ হবেন না, ব্যক্তি নেইমারও বিশ্ব ফুটবলে হয়ে উঠবেন আরও উদ্ভাসিত।

সেমিফাইনালে লাইপজিগকে হারিয়ে আরাধ্যের ফাইনালে ওঠার পরও অবশ্য শিরোপা নির্ধারণীতে নেইমারের খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। সেদিন ম্যাচশেষে জার্মান ক্লাবটির মার্সেল হাস্টেনবার্গের সঙ্গে জার্সি অদল-বদল করেছিলেন তিনি, যা করোনা মহামারির মধ্যে উয়েফার ‘রিটার্ন টু প্লে’ প্রটোকলের পরিপন্থি। জার্সি বদলের শাস্তি সুস্পষ্ট করা না থাকলেও প্রটোকল ভাঙলে উয়েফার ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন প্রয়োগ করা যাবে বলা হয়েছিল। সে অনুসারে এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বা দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের সাজা হতে পারত নেইমারের। যার অর্থ, ফাইনাল খেলতে পারতেন না তিনি।

তবে ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, নেইমারের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উয়েফা। নেইমার তাই পিএসজি ইতিহাসের একজন হয়ে ওঠার এবং নিজেকে নতুন উচ্চতায় তুলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বায়ার্নের বিপক্ষে। দলের প্রধান তারকা হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন আগের দু’বার ধাক্কা খেয়েছে চোটের কারণে। প্রথমবার চোটের কারণে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ খেলতে পারেননি, যেখান থেকে তার দল বিদায় নিয়েছিল। পরেরবার ম্যানইউর বিপক্ষে শেষ ষোলোর দুই লেগই মিস করেন। দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও পেয়েছেন। তবে করোনাকালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চোট ও ডিসিপ্লিনারি ইস্যু একপাশে রেখে এখন পর্যন্ত এগিয়ে চলেছেন। কোয়ার্টারে আতালান্তা আর সেমিতে লাইপজিগ- উভয় ম্যাচে একাধিক গোলের সুযোগ মিস করলেও কার্যকারিতা দেখিয়েছেন মাঠজুড়ে দাপিয়ে খেলে। স্বদেশি ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভার আশা, ‘গোলগড নেইমারের গোল জমা রেখেছেন ফাইনালের জন্য।’