ধোনিকে অধিনায়ক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শচিন টেন্ডুলকার

২০০৪ সালে বাংলাদেশ সফরে সর্ব প্রথম মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখেন শচিন টেন্ডুলকার। অভিষেক সিরিজে খুব একটা রান পাননি ধোনি। তবে তার খেলার ধরণ, স্টাইল নজর কেড়েছিল শচিনের। ধোনিকে এক সময় গিয়ে অধিনায়ক করতে ক্রিকেট বোর্ডকে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন শচিনই। বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া সাক্ষাতকারে ধোনিকে নিয়ে এমন অনেক কথাই জানিয়েছেন মাস্টার ব্যাটসম্যান।

গত শনিবার ইন্সটাগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দেন ধোনি। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ভারতের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক হয়েছেন ধোনি। ভারতীয় ক্রিকেট অন্যধাপে নিয়ে যাওয়ার পেছনে রেখেছেন অবদান।

২০১১ সালে ধোনির নেতৃত্বেই ২৮ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ভারত। তাতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষ করার আগে একটি বিশ্বকাপ জেতার আক্ষেপ মেটে শচিনেরও।

২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সিনিয়র ক্রিকেটাররা না খেলায় অধিনায়ক করা হয় ধোনিকে। সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ২০০৮ সাল থেকে অন্য সংস্করণেও নেতৃত্ব পেয়ে যান ধোনি।

তবে তার ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার পেছনে আছে শচিনের অবদান। ধোনিকে অধিনায়ক করতে যে শচিনই প্রস্তাব করেছিলেন তৎকালীন বোর্ড কর্তাদের, ‘আমি অধিনায়ক হিসেবে ধোনির নাম প্রস্তাব করেছিলাম। আমি বেশিরভাগ সময় প্রথম স্লিপে দাঁড়াতাম। ধোনি কিপার। বল হাওয়ার মাঝে, ওভারের ফাঁকে অনেক কথা হতো। খেয়াল করতাম ও মাথা ক্রমাগত চলমান। কোন পরিস্থিতি কি করা উচিত বলে দিত। খুব সজাগ থাকত। গেম রিডিং ছিল অসাধারণ। যেকোনো পরিস্থিতিতেই শান্ত থাকতে পারত। এসব দেখেই মনে হয়েছিল ও খুব ভাল অধিনায়ক হতে পারে।’

দুই ফরম্যাটে দুটি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা আর টেস্টে ভারতকে এক নম্বরে তোলা। ধোনির মতো এতগুলো সেরা সাফল্য নেই আর কোন অধিনায়কেরই। হারতে যাওয়া অনেক ম্যাচ কেবল তার প্রখর বুদ্ধিতেই বের করে নেয় ভারত।

শচিনও তার খেলা সেরা অধিনায়কের কাতারে উপরের দিকে রাখলেন ধোনিকে, ‘যাদের অধীনে আমি খেলেছি, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে ধোনি অন্যতম সেরা। তার বরফশীতল মস্তিষ্ক, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারার ক্ষমতা অসাধারণ। দলকে খুব ভাল সামলেছে। অনেকের পরামর্শ নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারত।’

সাক্ষাতকারে ধোনিকে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতার কথাও জানান কিংবন্দন্তি ব্যাটসম্যান, তখনই ধোনিকে আলাদা করে পরখ করেছিলেন তিনি, ‘২০০৪ সালে বাংলাদেশ সফরে প্রথম ধোনিকে দেখি। ওই ওয়ানডে সিরিজেই ব্যাট করতে দেখি প্রথম। বেশি রান করতে পারেনি। ড্রেসিংরুমে আমি সৌরভের পাশে ছিলাম। ধোনির ব্যাটিং দেখে আমরা আলাপ করেছিলাম, ছেলেটা কত জোরে মারতে পারে!’