ইতিহাস গড়ে ফাইনালে পিএসজি

স্বপ্ন পূরণে আরো একধাপ এগিয়ে গেল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। জার্মান ক্লাব লেইপজিগকে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে ফরাসি জায়ান্টরা। বুধবার পর্তুগালের লিসবনে লেইপজিগের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে পিএসজি।

কাতারি মালিকানার পর থেকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে পাখির চোখ করে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতে শুরু করে পিএসজি। একই উদ্দেশ্যে বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় কিনে আনে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে। এক গাদা টাকা খরচ করে কেনে কিলিয়ান এমবাপেকেও।

কিন্তু দু’হাতে টাকা উড়িয়েও সাফল্য পাচ্ছিল না প্যারিসের ক্লাবটি। অবশেষে পেট্রোডলার ঢালার সুফল পেতে শুরু করেছে নেইমার-এমবাপেদের ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। ফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জার্মান দৈত্য বায়ার্ন মিউনিখ। অবশ্য স্বদেশী লিওঁও হতে পারে পিএসজির প্রতিপক্ষ। যদি আগামী কালকের সেমি ফাইনালে তারা বায়ার্নকে হারিয়ে দিতে পারে।

এদিন শুরু থেকেই পূর্ণ শক্তি দল নিয়ে নামে পিএসজি। পিএসজি কোচ টমাস ট্যাখেল তার সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই সেমি ফাইনাল শুরু করেন। ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো সেমি ফাইনাল খেলেছে তারা। এর আগে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবার ইউরোপ সেরার সেমি ফাইনাল খেলে তারা।

সেরা একাদশ নামানোর সুফল ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটেই পেয়ে যান পিএসজি কোচ। আনহেল ডি মারিয়ার ফ্রি-কিক থেকে হেডে দলকে এগিয়ে দেন মার্কিনিয়োস।

তার আগে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে চমৎকার একটি সুযোগ নষ্ট করেন নেইমার। কিলিয়ান এমবাপের দারুণ একটি পাস ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকায় পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেললেও গোলের বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী এই ফুটবলার। একই অবস্থা ছিল এমবাপেরও। তিনিও গোলের দেখা পাননি, নষ্ট করেছেন বেশ কয়েকটি সুযোগ।

এদিকে গোল খেয়ে কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে লেইপজিগ। বেশ কয়েকটি চমৎকার আক্রমণও সাজায় তারা। কিন্তু পিএসজির জাল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ ভাগে, ম্যাচের ৪২ মিনিটে নেইমারের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডি মারিয়া।

বিরতি থেকে ফিরে পিএসজির রক্ষণে চাপ তৈরি করে জার্মান ক্লাবটি। কিন্তু কিন্তু পিএসজির গোল মুখে শট নিতে বরাবরই ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচ জুড়েই ছিল তাদের এমন হতাশার চিত্র। পিএসজির গোল মুখে ১৪টি শট নিয়ে মাত্র ৩টি টার্গেটে রাখতে পেরেছিল তারা।

এদিকে দুই গোলে এগিয়ে থাকা পিএসজি ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায়। দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন হুয়ান বের্নাত। এই গোলটিতে ছিল ডি মারিয়ার অ্যাসিস্ট। আর এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির ৩-০ গোলের জয়।