বৈরুতে বিস্ফোরণ: পদত্যাগ করলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দুই বিস্ফোরণের জের ধরে পদত্যাগ করলেন লেবাবনের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। ‘দুর্নীতির মহামারি’কেই গত সপ্তাহের ওই বিস্ফোরণের কারণ আখ্যা দিয়ে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

বৈরুতের সমুদ্রবন্দর এলাকার ৪ আগস্টের ওই জোড়া বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তির, আহত হয়েছেন ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। আহতদের মধ্যেও রয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি ব্যক্তি।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, সোমবার (১০ আগস্ট) টেলিভিশনে দেওয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণে দিয়াব পদত্যাগের ঘোষণা দেন। জোড়া বিস্ফোরণকে ‘অপরাধ’ অভিহিত করে তিনি বলেন, দুর্নীতি যেভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, তার ফলশ্রুতিতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আসার আহ্বান জানান তিনি।

লেবানন সরকারের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বন্দর এলাকায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বন্দরে পড়ে আছে। গত কয়েক বছর ধরেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লেবানন। এর মধ্যে বিস্ফোণের এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ লেবাননবাসী। এরই মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনার কারণেও লেবানন সরকারের পদত্যাগ দাবি করেও বিক্ষোভ করেছেন লেবানিজ নাগরিকরা।

ওই ঘটনার জের ধরে এর আগে লেবাননের আইনমন্ত্রী মারিয়া ক্লাউদে নাজিম, তথ্যমন্ত্রী মানাল আব্দেল সামাদ ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ড্যামিয়ানোস কাত্তার সরকারে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আগেই। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের ওপরও চাপ বাড়ছিল পদত্যাগের জন্য।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। ওই বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরকারকে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে সে ঘোষণাই দিলেন হাসান দিয়াব।

এদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থার তথ্য বলছে, দেশটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল টোনি সালিবাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বিচার বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা কোনো তথ্য না জানালেও বার্তা সংস্থাটি বলছে, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুতের বিষয়ে পৃথক একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় লেবাবনের কাস্টমস বিভাগের প্রধান, তার পূর্বসূরী ও বন্দরের প্রধানসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অনেক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।