পল্লবী থানায় হামলায় আইএসের দাবি ‘বোগাস’: পুলিশ

রাজধানীর পল্লবী থানায় হামলার যে দাবি করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস, তা ‘বোগাস’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে পল্লবী থানায় এক বিেস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন।

এ ঘটনার পর ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনজন সন্ত্রাসী আটক করার সময় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ডিজিটাল ওয়েট মেশিনসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, আটকদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় বুধবার সকালে ডিউটি অফিসারের রুমে থাকা মালামালগুলোর মধ্যে থেকে বিকট শব্দে ওয়েট মেশিনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা চার পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন থানায় আসা সাথারণ মানুষ আহত হন।

এরপর বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টার দিকে অনলাইনে জিহাদি তৎপরতা পর্যবেক্ষণের দাবিদার সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক রিটা কাটজ টুইট বার্তায় আইএসের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি টুইট বার্তায় দাবি করেন, ঈদুল আজহার আগে তাদের নতুন দফা হামলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ঢাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আইএস দাবি করছে। যদিও আইএসের দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে বিস্ফোরেণের প্রায় ১২ঘন্টা পর এমন তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ডিএমপির একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।

কথিত সাইট ইন্টেলিজেন্স ও এর পরিচালকের টুইট বার্তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপকমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টুইট বার্তা দেখেছি। যত দূর বুঝতে পারছি, এটি বোগাস’।

রিটা কাটজ আরও লেখেন, ২০১৯ সালের অগাস্টের পর বাংলাদেশের রাজধানীতে আইসিসের এই প্রথম হামলা।

যদিও পল্লবী থানার ভেতর বিস্ফোরণ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি মিরপুরের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটে। যাতে পুলিশের চার কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হন।