দ্রুত স্ক্রিপ্ট তৈরিতেই বিভ্রান্তি: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বক্তব্যের স্ক্রিপ্টটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরি করায় এবং ভালো করে পরীক্ষা না করায় এমনটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ভুলের দায় চাপান বক্তব্যের লেখকদের ওপর। তিনি বলেন, বক্তব্যের স্ক্রিপ্টটি দ্রুততার সঙ্গে তৈরি করতে বুলেটিনের সময় হয়ে যায় এবং ভালো করে পরীক্ষা করারও সুযোগ হয়নি। সেই স্ক্রিপ্টই বুলেটিনে পাঠ করা হয়। তবে পরে বুঝতে পারি, বক্তব্যে অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ তার পাঠানো ব্যাখ্যায় আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সারা বিশ্বে এক দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। একটি সফল টিকা আবিষ্কার এবং পর্যাপ্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সফল প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দেশগুলোতে করোনার অস্তিত্ব থাকবে। ফলে এটি এক বছরের বেশি এমনকি দুই বা তিন বছর বা এরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। যদিও আমরা মনে করি, সংক্রমণের মাত্রা অনেক হ্রাস পাবে।

মহাপরিচালকের বক্তব্যে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহাপরিচালকসহ স্বাস্থ্য অধিদফতর একান্তভাবে কামনা করে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা প্যানডেমিকের সমাপ্তি যেন অতি দ্রুত ঘটে। কিন্তু আমাদের মনোবল, প্রস্তুতি ও সতকর্তায় কোনও ঘাটতি রাখা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের নতুন স্বাভাবিক ( New Normal) অবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং আমাদের জীবনাচরণকে এই পরিস্থিতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। মহাপরিচালক এই বিষয়টিই সবাইকে বলতে চেয়েছিলেন।

এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে গণমাধ্যমসহ সবাইকে বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য আবেদন জানান তিনি। অনলাইন পঠনে স্ক্রিপ্ট ত্রুটির জন্য যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য তিনি বিনীতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।