হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আ. লীগ নেতার মৃত্যু

সিলেটে বেসরকারি করোনা হাসপাতাল থেকে ‘স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র’ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুরাদ আহমদ মুরন মহানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নগরীর আখালিয়ার বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে বাসায় আসার পথে তিনি গাড়িতেই মারা যান। পাঁচ দিন আগে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া মুরন ‘অনেকখানি সুস্থ’ হওয়ায় স্বজনেরা তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা মুরন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখানে চিকিৎসা নেওয়ার আগে তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। নগরীতে করোনা আক্রান্তদের সরকারিভাবে চিকিৎসার জন্য শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল নির্ধারিত। এই হাসপাতাল থেকেও স্বেচ্ছায় বেসরকারি হাসপাতাল স্থানান্তর হয়েছিলেন মুরন। যদিও মুরনের স্বজনেরা দাবি করেছেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় মাউন্ট এডোরায় নেওয়া হয়েছিল।

এ দিকে মুরন ‘করোনায় আক্রান্ত’ হয়ে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুরাদ আহমদ মুরন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপিত ওয়ারিস মিয়া দাবি করেছেন, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনও ‘জানেন না’ বলেছেন।

নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারিস মিয়া বলেন, অসুস্থ অবস্থায় মুরাদ আহমদ মুরন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাসায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। বাসায় নিয়ে আসার পথে তিনি মারা যান।

আওয়ামী লীগ নেতা মুরনের ভাতিজা ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আবির হাসান রানা বলেন, চাচার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। কিন্তু করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। কয়েকদিন আগে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাই মারা যাওয়ার পর মুরন অসুস্থ হন বলে দাবি করেন আবির। বাদ এশা মরহুমের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানান আবির।