টাকা আদায়ে দেনাদারকে জড়িয়ে ধরল করোনা রোগী

কক্সবাজারে করোনা পজিটিভ এক যুবক পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ‘করোনা লাগিয়ে দেওয়ার’ কথা বলেই দেনাদারের সাথে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোড বাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও গত দুই দিন ধরে করোনা আক্রান্ত এই রোগির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচলেরও অভিযোগ রয়েছে।

নিজবাড়ির লকডাউন অমান্য করে তিনি যখন মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হন তখন লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় ‘করোনা আইয়্যের, করোনা আইয়্যের’ বলে এলাকাবাসীর মধ্যে চিল্লাচিল্লির মাধ্যমে ছুটাছুটি শুরু হয়। বেপরোয়া আচরণের এই ব্যবসায়ী যুবকের বিরুদ্ধে কেউ তেমন টু শব্দও করতে পারে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বরেন, তিনি খবর পেয়েছেন স্টেশনে করোনা রোগী জাহাঙ্গীর লকডাউন অমান্য করে লোকজনের সাথে ঝগড়াঝাটি করছেন।

আজ রাতের মধ্যে তাকে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান। অপরদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন।

জানা যায়, লকডাউন অমান্যকারী করোনা আক্রান্ত এই রোগীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম মুকতারকুল গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সিএনজি চালিত ট্যাক্সি ব্যবসায়ী। তিন দিন আগে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তার ভগ্নিপতি আবদুর রহমান ও তার বোন খুরশিদা বেগমও বেশ কয়েকদিন ধরে করোনা আক্রান্ত হয়ে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে রয়েছেন।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, করোনা আক্রান্ত যুবক জাহাঙ্গীরের বেপরোয়া আচরণের সালিশ-বিচার নিয়ে আমরাও অতীষ্ট হয়ে পড়েছি। তিনি লকডাউন না মেনে হরদম মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করায় স্থানীয়রাও বিপাকে পড়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত রবিবার জাহাঙ্গীর আলমকে নিজ ঘরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সেই সাথে পাড়াটিও লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একদিন পরেই জাহাঙ্গীর আলম লকডাউন অমান্য করার কাজ শুরু করে দেয়। সর্বশেষ আজ লিংকরোড ষ্টেশনের দোকানী সালামতের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য করোনা রোগি জাহাঙ্গীর ‘করোনা হামলা’ চালিয়েছে।

জানা গেছে, সালামতের নিকট থেকে পাওনা টাকা আদায়ের কৌশল হিসাবে জাহাঙ্গীর নিজেই উত্তেজিত হয়ে তাকে ঝাপটে ধরে বলেন, করোনায় আমিও মরব-তুইও মর।

এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার নাসির উদ্দিন জানান, করোনা রোগী জাহাঙ্গীরের ‘করোনা হামলার’ খবর পেয়েই আমি এবং চেয়ারম্যান সাহেব দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। হামলার শিকার সালামতকে আমরা দ্রুত সাবান নিয়ে গোসল করার ব্যবস্থা করি।