দেশে করোনা চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করলো এভার কেয়ার হসপিটাল

কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হবার ১৪ দিন পর ডোনার হিসেবে অন্যকে রক্ত দিতে পারেন। তার শরীরে এ সময় এন্টিবডি তৈরি হয়। এতে রোগীর ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রোগী তখন দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবার সুযোগ পান।

ইতিমধ্যে আমেরিকা, ইরান, ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা এই চিকিৎসায় সুফল পেয়েছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি। গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের সুপারিশও করেছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এবার কভিড-১৯ চিকিৎসায় কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করলো এভার কেয়ার হসপিটাল ঢাকা।

জানা গেছে, কভিড আক্রান্ত একজন রোগীর দেহে এই থেরাপি প্রয়োগের পর রোগীকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্লাজমা নেওয়া হয়েছে উক্ত হাসপাতালের আরেক চিকিৎসকের দেহ থেকে যিনি কভিড আক্রান্ত হয়ে এখন সুস্থ হয়েছেন।

এর আগে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেশে প্রথম প্লাজমা ডোনেট করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জোয়ারদার রাকিন মনজুর। তবে সেই প্লাজমা অন্য কোনো রোগীর দেখে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।

এভার কেয়ার হসপিটাল ঢাকার হেমাটোলজি অ্যান্ড স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অন্যতম কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্লাজমা কনভালসেন্ট থেরাপি। এতে কভিড আক্রান্ত রোগীদের ৯৭-৯৮ ভাগ-ই সুস্থ হচ্ছেন। আমরা যথেষ্ট আশাবাদী এই চিকিৎসা নিয়ে।