আক্রান্ত শুনে পালানো ব্যক্তির স্ত্রীর পর শিশু সন্তানও করোনা ‘পজিটিভ’

বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুনেই পালানো এক ব্যক্তির স্ত্রীর পর এবার ১২ বছরের শিশু সন্তানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া জেলা শহরের সেউজগাড়ি এলাকার একজন ব্যাংক কর্মকর্তাও করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সোমবার বগুড়ার ৯১টি, জয়পুরহাটের তিনটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বগুড়ার ওই শিশু এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তার প্রতিবেদন করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন।

কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া শিশুটির বাবা মা শহরের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা। আর মা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স। গত শুক্রবার তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানা গেছে, শহরের ফুলতলা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকেন ওই ব্যক্তি। তিনি রাজধানীতে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১০ এপ্রিল তিনি বগুড়া শহরে তার ভাড়া বাসায় আসেন। ঢাকাফেরত হওয়ায় ২৬ এপ্রিল শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে গিয়ে তিনি নমুনা দেন। ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় করোনা ‌‌’পজিটিভ’ শনাক্ত হন ওই ব্যক্তি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে রাতেই বাসা থেকে পালিয়ে যান। সঙ্গে করে নিয়ে যান ১২ বছরের শিশু সন্তানও। পরে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সেখানেই তাকে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) রাখা হয়।

এরপর আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং পরে তার শিশু সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষায় শহরের সেউজগাড়ি এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তাও করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তার বয়স ৫৮ বছর। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় কর্মরত। ওই শাখার ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সেটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

গত ২৮ এপ্রিল ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বগুড়ায় ফেরেন। মঙ্গলবার নমুনা সংগ্রহ করার পর তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান।