করোনার ভ্যাকসিন হয়তো কোনদিন পাওয়া যাবে না, আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

ডেঙ্গুর মতো কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন তৈরি কোনো দিন আবিষ্কার হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের অনেকেই।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ জানিয়েছে, করোনার সংক্রমণ রোধে এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের লক্ষ্যে ১০২টি গবেষণার মধ্যে আপাতত আটটি মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তার জীবাণুনাশক ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বহু সময় প্রয়োজন।

এমন সম্ভাবনায় বিশ্বে করোনা প্রকোপ থেকে মুক্তির আশা জেগেছে ভ্যাকসিন তৈরিতে। হয়তো ভ্যাকসিন তৈরিতে পৃথিবীর মানুষরা করোনা জয় করবে। এমন প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড নাবারোর মতে, কিছু কিছু ভাইরাসের এখনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। আর হবে এমন কোনো কথাও নেই। যদি তা আবিষ্কার করাও যায়, সব পরীক্ষায় সেই প্রতিষেধক উত্তীর্ণ হবে, এমন ভাবাও ভুল।

তবে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের ডিরেক্টর অ্যান্থনি ফাউসির মতে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়। তবে সেটার নির্দিষ্ট সময় ১২ থেকে ১৮ মাস লাগে।

হিউস্টনের বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের ডিন পিটার হোটেজ দাবি করেছেন, যে কোনো নতুন ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে ১৮ মাসের বেশি সময় লাগেনি।

চিকিৎসক বিজ্ঞানীদের নিজেদের মধ্যেই এমন যুক্তিই প্রমাণ করে করোনার এই ভ্যাকসিন নিয়েই বেশ বিপাকেই পড়েছেন তারা। তবে বেশি সংখ্যক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা আশার আলো দেখিয়ে বলছেন, করোনার টিকা দ্রুতই আসবে এবং তা মানবদেহে প্রয়োগও হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে আছে। যে দেশই টিকা আবিষ্কার আগে করতে পারবে, সে দেশই অর্থনৈতিক তো বটেই কূটনৈতিকভাবেও তার ফায়দা আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করবে।

যদিও চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন অনেকটাই এগিয়ে আছে। কারণ, চীনই প্রথম করোনাভাইরাস নিয়ে জানতে শুরু করে।