উত্তাল লেবানন, জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে ব্যাংক

লেবাননে প্ল্যাকার্ড এবং সরকারবিরোধী স্লোগানের বদলে বিক্ষোভকারীরা মোলোটভ ককটেল এবং অন্যান্য হাতে বানানো অস্ত্র নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সাথে সাথে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তারা দেশের ব্যাঙ্কগুলোতে হামলা চলাচ্ছে। সেগুলো ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বৈরুতের মোহাম্মদ সাব্বাহ (২৯) নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘আমরা এমন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি যা ভাইরাসের চেয়ে বিপজ্জনক, মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছে, অনাহারে মরছে।’

লেবানন যেদিন করোনভাইরাস লকডাউন ব্যবস্থা শিথিল করবে বলে ঘোষণা করেছিল, সেদিনই উত্তরের শহর ত্রিপোলিতে হতাশ বিক্ষোভকারীদের মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে রাস্তায় প্রেরণ করা হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির অবসানের জন্য অক্টোবরের পর থেকে লেবানিজরা রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু তাদের এখন বার্তাটি অন্যরকম, তারা খাবারের জন্য বিক্ষোভ করছে।

কয়েক মাসের কঠোর লকডাউন অর্থনৈতিক সংকটকে দ্বারা আরও জটিল করে তুলেছে। এটি সংক্রমণ কমতে সহায়তা করেছে কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করেছে এবং বহু লেবানিজের দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া ত্বরান্বিত করেছে।

মঙ্গলবার থেকে ত্রিপোলি শহরের ব্যাংকগুলো বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়। রাস্তায় রাস্তায় সেনারা তাদেরকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। সিডন শহরের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অন্তত অর্ধডজন পেট্রোল বোমা হামলা চলে। পেট্রোল বোমায় জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বৈরুত ও নাবাতিয়েহ শহরের ব্যাংকও।

সম্প্রতি লেবাননের মুদ্রার মান দ্রুত কমে আসতে শুরু করেছে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে আন্দোলনকারীরা। গত ৬ মাসে এর মান কমেছে ৫০ ভাগেরও বেশি। লকডাউনের কারণে এই অর্থনীতি আরো নাজুক হয়ে পড়ছে। দেখা দিয়েছে বড় ধরণের অর্থনৈতিক সংকট। এতে মানুষের ক্ষোভ চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। এতে যোগ দিয়েছে দেশটির তরুণতরুণীরাও। সকল স্তর থেকেই মানুষ জন সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সূত্র: ফরেন পলিসি।