গার্মেন্টস সুপারভাইজারের ম্যাসেজ কাজে যোগ না দিলে চাকরি যাবে

আগামীকাল রোববার সকালে গার্মেন্টসকর্মীসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাজে যোগদান করতে হবে। না করলে তারা বেতন পাবেন না এবং অনেকেরই চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে। এমনই জানালেন গার্মেন্টস কর্মীরা।

আর এ কারণেই সকাল থেকে হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী শনিবার ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে ভিড় জমায়। তারা হাওর এলাকাসহ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সকালে বাসট্যান্ডে পৌঁছে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। দুপুর পর্যন্ত অনেকেই কোনো যানবাহন পায়নি। তবে মাঝে-মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খালি ট্রাকে উঠে অনেককেই কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।

বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অসংখ্য লোকজন জমায়েত দেখে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এদেরকে সরানোর চেষ্টা করে। কিন্ত পুলিশের তাড়া খেয়েও তারা আশেপাশের গোপন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে।

হাওরের মিঠামইন উপজেলা থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী শায়লা বেগম জানান, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও ট্রলার ও সিএনজি দিয়ে অনেক কষ্ট করে ভৈরবে এসেছি। গাজীপুর যাব। সুপারভাইজার মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েছে রোববার কাজে যোগ না দিলে চাকরি যাবে। এখন ভৈরবে এসেও কোনো যানবাহন পাচ্ছি না।

তিনটি ছোট ছোট সন্তান নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রতনপুর থেকে জোহরা খাতুন ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে এসে বিপদে পড়েছেন। সিএনজি ও অটোরিকশায় ৬০০ টাকা খরচ করে ভৈরবে এসেছেন বলে জানান তিনি। নারায়নগঞ্জে গার্মেন্টেসে চাকরি করেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না এই নারী।

ভৈরব হাইওয়ের সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম জানান, রোববার গার্মেন্টসসহ অনেক প্রতিষ্ঠান খোলা। তাই ভৈরবসহ আশেপাশের ৪/৫ জেলার কর্মজীবি নারী-পুরুষ ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করেছে কর্মস্থলে যেতে। সরকারিভাবে যানবাহন চলাচল নিষেধ রয়েছে। কিন্ত তারা বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ যেতে এখানে অপেক্ষা করছে।

লোকসমাগম না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে পুলিশ তাদের অনুরোধ করে। বিষয়টি মানবিক কিন্ত সরকারি আদেশ নির্দেশ পুলিশকে মানতেই হবে।