হিন্দুদের মন্দির বাঁচিয়ে অনন্য নজির গড়লেন দিল্লির মুসলিমরা

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জ্বলছে ভারতের রাজধানী উত্তর-পূর্ব দিল্লি। এতে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত ৩৪ জনের। দেশটিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বেছে বেছে হা’মলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়লেন স্থানীয় মুসলিমরা।

গতকাল বুধবার হাতে হাত রেখে মানবশৃঙ্খল করে চাঁদবাগের একটি মন্দির ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন সেখানকার মুসলিমরা। এর মাত্র একদিন আগেই শহরের অশোকনগর এলাকার একটি মসজিদে হা’মলা চালায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু বুধবার চাঁদবাগ মন্দিরে হা’মলা প্রতিরোধ করে ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির গড়লেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, এই মানবশৃঙ্খলে অংশ নিয়েছিলেন সালীম। ৬৭ বছর বয়সী এ ব্যক্তি বলেন, ‘মন্দিরটির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে সেটি হতো আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

এদিকে শুধু পুরুষেরাই নয়, মন্দির বাঁচাতে দাঁড়িয়েছিলেন মুসলিম নারীরাও। তাবাসসুম নামে ৩০ বছর বয়সী এক নারী বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করেছি মন্দিরটির যেন কিছু না হয়। হিন্দু ভাইদের দোকানগুলোরও যেন কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখছি।’

এ সময় গৌরব নামে এক যুবক বলেন, আমাদের এলাকায় যারা নিরাপত্তা দিচ্ছেন, তাদের সবার খেয়াল রাখছি। যতক্ষণ তারা এলাকায় থাকবেন, আমরা তাদের পাশে আছি। এছাড়া, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়া মানুষদেরও প্রয়োজনীয় খাবার দিচ্ছি।

এদিকে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ ও আরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে জাফরাবাদ, মৌজাপুর, সীলামপুরসহ বেশ কিছু এলাকায়।