পুড়ছে দিল্লি, হিন্দুদের ঘরে আশ্রয় পেল বহু মুসলিম

ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন দোকানঘরও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু বেকায়দায় পড়া ৪০ জন মুসলমানকে আশ্রয় দিয়েছে হিন্দুরা। দিল্লির অশোকনগর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবার যখন তাদের বাড়িঘর ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছে হিন্দুরা।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকশ উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা অশোকনগর এলাকায় ঢুকে পড়ে। তারা মুসলমানদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেখানকার স্থানীয় মসজিদে ওই সময় অন্তত ২০ জন নামাজ পড়ছিলেন। তাদেরকে বেধড়ক পেটানো হয়।

এ সময় দাঙ্গাবাজরা মসজিদে ভাংচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, দাঙ্গাবাজরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। তাদেরকে বারবার করে এসব করতে নিষেধ করা হলেও শোনেনি। বেশিরভাগ যুবকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

এ ব্যাপারে অশোক নগরের স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ খেত্রি বলেন, ‘আমরা ব্যাপক ভয় পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, আমাদের মেরে ফেলা হবে। এখানে মুসলমানদের ছয়টি বাড়ি রয়েছে। তারা সেগুলো ভেঙে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমাদের চেনে বলে কিছু বলেনি।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে এখানে বাস করছি। হিন্দু-মুসলমান এক পরিবারের মতো থাকি।’

এ সময় পিন্টু নামে এক হিন্দু যুবক বলেন, ‘আমি হিন্দু হলেও মুসলমানদের নির্যাতন সমর্থন করি না। আমরা কখনোই মুসলমানদের কু-নজরে দেখি না। তাদের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি।’