বোকামীর ফল : অগ্নীদ’গ্ধ ৮ জন, নি’হত ১

এলাকায় অধিকাংশ সময়ই গ্যাস থাকেনা। আর তাই গৃহীনিরা গ্যাসের চুলা চালু করে রাখেন, যাতে গ্যাস আসলে শব্দ পেয়ে রান্না করতে যেতে পারেন। এমন জ্ঞানহীনকর্মের ফল ভোগ করতে হচ্ছে শিশুসহ পরিবারের ৮ সদস্যের।

রোববার ১৬ ফেব্রুয়ারী রাতে গ্যাস চলে যাওয়ায় চুলা চালু করে রেখেছিলেন গৃহীনিরা। আর এ অবস্থায়ই ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সবাই। পরদিন সকালে রান্না করতে গিয়ে চুলায় আ’গুনদিতেই বি’ষ্ফোরণে পুরো ঘরেই আ’গুন ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুতরভাবে দ’গ্ধ হয় একইপরিবারের ৮ সদস্য। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ নারীর মৃ’ত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেবপাড়া বাজার সংলগ্ন ফারুক মালিকানাধীন বহুতল ভবনের নিচতলায় অ’গ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটানস্থলে এসে আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অ’গ্নিদগ্ধরা হলেন- নুরজাহান (৭০), কিরন (৪৫), হিরন (২৬), ইমন(২২), আপন (১২), কাউছার (১৪), ইলমা (৩) ও মুক্তা (২৫)। এদের মধ্যে ২-৩ জনের অবস্থা আ’শঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঐ বাড়ীর নিচতলা ভবনে সব ধরনের মালামাল আ’গুনে পুড়ে গেছে।

জানালার গ্যাস ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। আহতদের স্বজননাছির উদ্দিন জানান, প্রায়ই গ্যাস না থাকায় রাতে চুলা চালু রেখে ঘুমিয়ে পরেসবাই। পরদিন ভোরে রান্না করতে নুরজাহান চুলায় আ’গুন জ্বালাতে গেলে পুরো ঘরে আ’গুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুরুতর আ’হত হয় পরিবারের ৮ সদস্য। এসময় চিৎকার শুনে আশে-পাশের লোকজন এসে বারান্দার গ্রিল ভেঙে অপর এক শিশু ও এক নারীকে অ’ক্ষত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদশাহজাহান জানান, ফারুক মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় বিকট শব্দে রান্নাঘরের চুলা থেকে এ বি’স্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের ৮ জন গুরুতর আ’হত হয়েছে। মু’মূর্ষ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতে রান্নার চুলা বন্ধ না করে ওই পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়ে। ফলে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘরের ভেতর জমে থাকে। পরদিন ভোরে রান্না ঘরে গ্যাসের চুলায় আ’গুন ধরাতে গেলে জমে থাকা গ্যাসের বি’স্ফোরণ হয়।