চালককে পিছনে বসিয়ে রিকশা চালালেন আশরাফুল

বাংলাদেশ দলে মোহাম্মদ আশরাফুল যখন ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছেন, পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে শুধু মাশরাফিই তখন মাঠে। তাও নিয়মিত নন, চোটের কারণে। আশরাফুলের আবেদন তাই ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই মোহাম্মদ আশরাফুল ফিক্সিংয়ের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পরেন।

তবে এখন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দাপটের সাথেই ফিরেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। জাতীয় দলের দরজা আর খোলেনি, তবে আশরাফুল আশা ছাড়ছেন না। ফিটনেস ধরে রেখে লড়ে যাচ্ছেন এখনো, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্মও করছেন।

মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে তার সমর্থকদের উন্মাদনা এখনো কমেনি। এখনো তিনি জায়গা করে আছেন লাখো ভক্তের হৃদয়ে। সেই ভক্তরা প্রবেশ করতে চান আশরাফুলের ক্রিকেটের বাইরের জীবনের অন্দরমহলে।

তাদের জানা-অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘মোভ উইথ আশরাফুল’ অনুষ্ঠানে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ‘মোভ উইথ আশরাফুল’ এর তিনটি এপিসোড, তাতেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলতে।

আশরাফুলকে নিয়ে ধারাবাহিক এই প্রতিবেদনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আশরাফুলেরই। ক্রিকেট থেকে ফুরসত মেলেই বা কতক্ষণ। তার মাঝেই সময় দিচ্ছেন। প্রথম এপিসোডে একজন ক্রিকেটার বা তারকার সত্তা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় নিলেন না। নিজের প্রিয় গান, প্রিয় গায়ক, ড্রেসিংরুমের স্মৃতি থেকে শুরু করে গান গেয়েও শোনালেন।

এ সময় আশরাফুল বললেন, ‘দলের সাথে থাকলে বা ভ্রমণে থাকলে আমরা প্রচুর গান গাই, নাটক দেখি। যদিও আমাদের প্রফেশন না, কিন্তু আমরা এটা উপভোগ করি। এসব দেখে-শুনে সময় কাটাই। জানি, আমার গান আপনাদের ভালো লাগেনি (হাসি)। তাও আমার অভিজ্ঞতা থেকে সময়টা আপনাদের দিলাম (গান গেয়ে)। আপনারা উপভোগ করবেন। ভালো থাকবেন। বিগত ২০ বছরের মত সামনের দিনগুলোও সমর্থন করবেন।’

এদিকে দ্বিতীয় এপিসোডে আশরাফুল হাজির হয়েছেন সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই, সাধারণ মানুষের ভিড়ে। তাকে নিয়ে রওয়ানা তাই তার বাসার পার্শ্ববর্তী সাপ্তাহিক হাটের দিকে। নিজের অবশ্য হাটে যাওয়া হয় না। আগে বাজারসদাই করতেন বাবা, এখন বড়ভাই। তবে অবসর সময় বের করে হাটে খোদ ‘সাধারণ আশরাফুল’। তবে সাধারণ হয়ে থাকা হল কই!

এদিকে হাটের সবজিবিক্রেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-প্রেশা-বয়সের ক্রেতা- আশরাফুলকে দেখে সবাই আহ্লাদিত। এখনো তাকে জাতীয় দলে দেখতে চান তারা। ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করার পাশাপাশি সেলফির আবদারও মেটাতে হল আশরাফুলকে।

তৃতীয় এপিসোডে আশরাফুলের হাতে রিকশার হাতল! ক্রিকেটারদের জীবনে খাটনির কমতি নেই। নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, ফিটনেস ধরে রাখা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও বিশ্রামের কারণে অনেক ক্রিকেটারই হাঁপিয়ে ওঠেন। তবে রিকশা চালানো যে তার চেয়েও কঠিন কাজ, আশরাফুল তা অনুধাবন করলেন নিজে রিকশাচালকের আসনে বসে। জীবন সংগ্রামে কুঁজো হওয়া মানুষের সাথে মিশে যেতে চাইলেন আশরাফুল।

গত কয়েক মাস ওজন কমিয়ে আশরাফুলের এখন লিকলিকে গড়ন। যেন উনিশ-কুড়ি বছরের সেই তরুণ আশরাফুল। তাকে পথেঘাটে হাঁটতে দেখে তাই বিভ্রম হল অনেকের।