মৃ’ত্যু’র দেড় মাস পর বাড়ি ফিরেলেন বৃদ্ধ, তারপর……

দুপুরবেলা ঘরে রান্না করছিলেন গীতা পাল। হঠাৎ এক বৃদ্ধ বাড়ি এসে বললেন, ভাত দে ক্ষুধা পেয়েছে। শুনে গীতার হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার উপক্রম। তাকে দেখে হা’উমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। প্রতিবেশীর ছুটে আসেন। তাদেরও পা কাঁ’পছে দৃশ্য দেখে। মাসখানেক আগে যার শ্রা’দ্ধ করা হলো, সেই ব্যক্তিই এখন বাড়িতে সশরীরে হাজির।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ভূষণ থাকতেন ভাতিজি গীতা এবং ভাতিজা প্রদীপ পালের বাড়িতে। মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে দিন কয়েক পরে ফিরে আসেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জানুয়ারি পুলিশ খবর দেয়, অ’জ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের মৃ’ত্যু হয়েছে নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। প্রদীপ-গীতা যেন গিয়ে ম’রদেহ দেখে আসেন। পরে কয়েকদিন পর হাসপাতালের ম’র্গে গিয়ে দেখেন, শীর্ণকায় দেহ। মুখ দেখে পরিচয় বোঝার উপায় নেই। শেষমেশ ডান পায়ের আঙুল দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন তারা। পরে পরিবারের হাতে ম’রদেহ তুল দেয় পুলিশ। এমনকি লা’শ সৎকারের পরে নিয়মমাফিক শ্রা’দ্ধও হয়। আর তারপরেই শুক্রবার দুপুরে ফিরে আসেন তিনি।

গীতা বলেন, ‘আমি দুপুরে রান্না করছিলাম। হঠাৎ জানালার সামনে দেখি, কাকা দাঁড়িয়ে। ভাত চাইল। দেখে আমার তো হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। পরে বুঝলাম ব্যাপারটা আসলে কী!’

প্রতিবেশী সুমিত দাস বলেন, ‘কদিন আগে যার শ্রা’দ্ধ খেয়ে এলাম, সেই লোকটাই সশরীরে হাজির। এমন ঘটনা ভাবতেই পারছি না।’

এদিকে ভূষণ পাল আছেন নিজের খেয়ালেই। এত দিন কোথায় ছিলেন প্রশ্ন শুনে খানিক ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন। তার পরে বললেন, ‘এই একটু ঘুরতে গিয়েছিলাম।’

আপনার শ্রা’দ্ধ হয়ে গিয়েছে, জানেন কি? এমন প্রশ্ন করতেই জবাব দিলেন, ‘তাই নাকি, কই আমাকে তো নেমন্তন্ন করেনি।’