অসুস্থ মাকে হাসপাতাল চত্বরে রেখে উধাও সন্তানরা

সন্তানদের পৃথিবীর আলো দেখানো সেই মাকেই পরিবারের বোঝা মনে করে হাসপাতাল চত্বরে ফেলে রেখে গেছেন তার সন্তানরা। আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ১১টার দিকে এমন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হাসপাতাল) চত্বরে।

জানা যায়, সেই বৃদ্ধার নাম জরিনা বেগম। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বছির উদ্দিনের স্ত্রী।

দেখা যায়, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন জরিনা বেগম। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। এর মধ্যে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ (হাঁপানি)। হাসপাতাল চত্বরে নির্বাক হয়ে শুয়ে আছেন তিনি। তাঁর পাশে পড়ে আছে ইনহেলার। তার দুই চোখ আকাশের দিকে। চোখে-মুখে তার কষ্টের ছাপ। কিছু জানতে চাইলে শুধু ইশারা করেন। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না তিনি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে গিয়ে জরিনা বেগমের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রবিবার সকালের দিকে অজ্ঞাত এক নারী জরিনা বেগমকে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। তিনি শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত। অজ্ঞাত ওই নারীর কথায় জরিনা বেগমকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা ইনচার্জ মুক্তি পারভিন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে জরিনা বেগমকে ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিনও তার স্বজনরা খোঁজ-খবর নিতে আসেননি। ওষুধ সেবনের সময় তিনি পারিবারিক নানা কষ্টের কথা বলেছেন।

এ সময় জরিনা সেবিকাকে জানান, তার স্বামী অনেক দিন আগে মারা গেছেন। তার দুই ছেলে ও ছেলে বউ রয়েছেন। তারা কেউ তার খোঁজ-খবর নেন না। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন তিনি। ছেলেরা তাকে চিকিৎসা করাতে চান না। তাকে পরিবারের বোঝা মনে করে হাসপাতালে রেখে গেছেন। তবে ভর্তির সময় তার সাথে একজন ছেলের বউ এসেছিলেন।

এ সময় মুক্তি পারভিন জানান, আজ রবিবার সকালের দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে জরিনা। তাই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।