দীর্ঘ ৫ বছর পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানি হ’ত্যা মা’মলার বি’চার শুরু

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানি খাতুন হ’ত্যা মা’মলার শুনানি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে। আদালত পিটিশনটি গ্রহণ করলেও গত ৫ বছরে নানা সময়ে দিন ধার্যের কথা জানা গেলেও কোনও শুনানি হয়নি। শুক্রবারই প্রথম এই মা’মলার শুনানি হয়েছে। মাসুম সম্পাদক কিরীটি রায় এই প্রতিবেদককে বলেছেন, দু দুবার বিএসএফের আদালতে অভিযুক্ত বি’এসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেবার পর ফেলানির পিতা মাসুমের কাছে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের আরজি জানিয়েছিলেন।

আবেদনে ফেলানি হ’ত্যার নিরপেক্ষ ত’দন্ত দাবি করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের কড়া শা’স্তির দাবি জানানো হয়েছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি পিতার সঙ্গে বিয়ের জন্য ফেলানি খাতুন বাংলাদেশে ফিরছিলেন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় কিশোরী ফেলানির জামা কাঁটাতারে আ’টকে গিয়েছিল। তার পিতা অবশ্য আগেই সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছিল। এই সময় কিশোরীর চিৎকারে বি’এসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষ কোনরকম প্ররোচণা ছাড়াই গু’লি চালিয়ে বাংলাদেশি কিশোরীকে হ’ত্যা করেছিল। সেই সময় কিশোরীর গু’লিবিদ্ধ দেহটি পাঁচ ঘন্টা কাঁটাতার থেকে ঝুলছিল। সেই ছবি দেশি বিদেশি মিডিয়ায় প্রকাশের পর প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল।

ফেলানি হ’ত্যার বিচার চেয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। এরপরেই বি’এসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে অমিয় ঘোষের বিচার হয়েছিল। ফেলানির পিতা ও মমতা পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে এসে আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছিল। কিন্তু সেই বিচারে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই রায় নিয়ে প্রবল সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলের ডিজি বিডি শর্মা মা’মলা পুনরায় রিভিউ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয়বারের বি’চারের সময় ফেলানির পিতা মাতাকে সাক্ষ্য দিতে কোচবিহারে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরেই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চেয়ে ফেলানির পরিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার ও মাসুমের কাছে তার কন্যার হ’ত্যাকারী বি’এসএফ জওয়ানের শা’স্তি এবং পর্যাপ্ত ক্ষ’তিপূরণের দাবিতে ভারত সরকার যাতে উদ্যোগী হয় সেজন্য আবেদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ফেলানি হ’ত্যার ত’দন্ত করে ৫ লক্ষ রুপি ক্ষ’তিপূরণ দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষ’তিপূরন আজও দেওয়া হয়নি।