করোনা আক্রান্ত ছেলেকে গু’লি করে মারা হবে, গুজব শুনেই দুনিয়া থেকে চলে গেলেন মা

সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামের রতন রপ্তান ভারতে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত সোমবার দুপুরে ভারত থেকে ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। তবে গায়ে জ্বর ও সর্দি, কাশি থাকায় ভোমরা স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় জ্বর ও সর্দি কাশি থাকায় তাকে নেওয়া হয় সদর হাসপাতালে।

কিন্তু এরই মধ্যে রতনের নিজ এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুলিশ রতনকে গু’লি করে মেরে ফেলবে। রতনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। একথা শুনেই চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েন রতনের মা রেনুকা রপ্তান। রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বৃদ্ধা। তিনি পাতাখালি গ্রামের বিমান রপ্তানের স্ত্রী।

এ ব্যাপারে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, সোমবার ভোমরা বন্দর দিয়ে বাড়িতে আসার সময় সর্দি, কাশি ও জ্বর থাকায় রতনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রক্ত নেওয়ার পর রতন বাড়ি ফিরে আসে। পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। শ্যামনগর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাকেও ফোন করেন রতনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে এলাকায় এক শ্রেণির মানুষ গুজব ছড়িয়ে দেয় রতনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। পুলিশ রতনকে গুলি করে মেরে ফেলবে। এসব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রতনের মা রেনুকা। ওই রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

এই ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অজয় সাহা বলেন, ‘করোনাভাইরাস সন্দেহে রতনকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। তবে রতনের শরীরে করোনাভাইরাসের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে গুজবের কারণে তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার গুজবে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনা আমার জানা নেই।’