ছোটোবেলায় বাবা-মা হা’রি’য়েছেন, তাই বৃদ্ধাশ্রমে সমাবর্তন উদযাপন সজিবের

ছোটোবেলায় বাবা-মা হা’রি’য়েছেন- সজিব হোসাইন। বাসা বরিশালের উজিরপুরে। পড়ালেখা করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে । স্নাতক করেছেন কৃষি অনুষদ থেকে। স্নাতকোত্তর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন থেকে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে দ্বিতীয় সমাবর্তন। ক্যাম্পাস মেতেছিল প্রা’ণের মেলায়। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছিলো বাবা-মাকে। বাবা-মা’র সঙ্গে ক্যামেরাব’ন্দী করতে ব্যাস্ত ছিলো সবাই। নিজের গাউন বাবা-মাকে পরিয়ে দিচ্ছে অনেকে।

কিন্ত সজিবেরতো বাবা-মা কেউ নেই। কার সঙ্গে ছবি তুলবে? কাকে গাউন পরিয়ে দিয়ে বলবে এ অর্জন সব তোমাদের? তাই সমাবর্তন শেষ হওয়ার পর পটুয়াখালীতে অবস্থিত দক্ষিনবঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে চলে যান। সেখানে সময় কাটান তাদের সঙ্গে।

এই ব্যাতিক্রমী উদযাপন স’ম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাবর্তনের কথা শোনার পর একটা সময় মাথায় আসে গাউন পরে কোথায় যাবো, কাকে পরাবো? তখন বিবেক উত্তর দিলো বৃদ্ধাশ্রমের মানুষগুলোর কথা। কারণ আমারতো বাবা-মা বেঁচে নেই। আর তাদের হয়তো সবাই থেকেও নেই।

মনে হলো আমার সঙ্গে মানুষগুলোর এ এক অদ্ভুত মিল। তাই ছুটে গেলাম তাদের কাছে। তাদের কষ্ট বুঝবো আর তারাও আমার ক’ষ্ট বুঝবে। হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও এমন মিল খুজে পাওয়া যাবে কিনা আমি জানি না। তাই সমাবর্তন উদযাপনটা তাদেরসহ কিছুটা হলেও স্বার্থক করবার চেষ্টা করলাম মাত্র।

সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, অভাগা জাতি তোমরা যারা তোমদের জান্নাতকে (বাবা/মা) বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছো। তোমাদের ধ্বং’স দেখার আগে বাবা/মাকে ঘরে নিয়ে আসো। মনে করে দেখো ছোটোবেলায় তাদের ছাড়া তোমরা ভালো ছিলে না একদিনও। আজ তোমদের ছাড়া তারা কি করে ভালো থাকবে?