চীনা প্রেসিডেন্টের মসজিদে গিয়ে দোয়া চাওয়ার ২০১৬ সালের ছবি ভাইরাল

চীনে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়েছে ২৫টি দেশে।

দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৩২৪ জন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

এ অবস্থায় নাকি চীনের একটি লোকাল মসজিদ পরিদর্শণে যান প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তিনি সেখানে মুসলমানদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। করোনাভাইরাস থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতে আল্লাহর কাছে মুসলমানদের দোয়া করতে বলেন। মসজিদে গিয়ে তার দোয়া কামনা করার ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বেশ কিছু অখ্যাত অনলাইনও এটা নিয়ে নিউজ করেছে। নিউজে বলা হচ্ছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি একটি মসজিদ পরিদর্শনে যান। তিনি সেখানে মুসলমানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় করোনাভাইরাস থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতে আল্লাহর কাছে মুসলমানদের দোয়া করতে অনুরোধ করেন।

অনেকে আবেগি হয়ে বেশ দায়িত্ব নিয়ে এই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছেন নানা কথা। কিন্তু ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরোনো। চীনের প্রেসিডেন্টের মসজিদে যাওয়ার ছবি এখনকার নয়, ২০১৬ সালের।

ওই বছরের ২০ জুলাই চীনা প্রেসিডেন্ট উত্তর-পশ্চিম চীনের নিংজিয়া অঞ্চল সফর করেন। তখন তিনি মুসলমানদের সঙ্গে মসজিদে সাক্ষাত করেন। বর্তমান করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চীনে দুই কোটি ৩০ লাখ মুসলমানের বসবাস এবং পশ্চিমাঞ্চলের নিংজিয়া প্রদেশে গত কয়েকশ বছর ধরে মুসলিমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করছে। হুই মুসলিমরা যদিও তাদের ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীন কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং এলাকায় উইঘুর মুসলিমরা সরকারের দিক থেকে বেশ চাপের মধ্যে আছে।

দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন পশ্চিমাঞ্চলে জিনজিয়াং-এ সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে এবং জনসমাগমের এলাকায় মুসলিম মহিলাদের নেকাব ব্যবহারে কারণে অনেকে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, হাজার-হাজার উইঘুর মুসলিমকে চীন সরকার জোর করে ‘শিক্ষা কেন্দ্রে’ পাঠিয়েছে। সেখানে আটককৃতদের নিজের ধর্ম ত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়েছে।