ভারতকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলল ফুচকা বিক্রেতা ছেলেটিই

পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এর পেছনে দারুণ ভূমিকা দুই ওপেনারের। এর মাঝে যশস্বী জয়সওয়াল তো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দিয়েছেন। তার ১১৩ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস নজর কেড়েছে ক্রিকেটবিশ্বের। অপর ওপেনার দিব্যানাশ সাক্সেনাও খেলেছেন ৯৯ বলে অপরজিত ৫৯ রানের ইনিংস। উঠতি তারকা যশস্বীর শুরুটা কিন্তু এত সহজ ছিল না। দারিদ্রের সঙ্গে লড়ে তাকে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের সুরিয়া এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন যশস্বী। ১০ বছর বয়সে মুম্বাই চলে আসেন তিনি। চোখে স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। দোকানে কাজ নিলেও ক্রিকেট প্র্যাকটিসের কারণে কাজ করতে পারছিলেন না। যে কারণে কিছু দিনের মধ্যেই চাকরি চলে যায়। সারাদিন প্র্যাকটিসের শেষে পেট চালানোর জন্য ফুচকা বেচতেন। তারপর ময়দানে এক মাঠ কর্মীর সঙ্গে তাবুতেই রাত কাটাতেন।

যশস্বীর এই চেষ্টা বিফলে যায়নি। ২০১৫ সালে স্কুল ক্রিকেটে তার খেলা ৩১৯ রানের ইনিংস এবং ৯৯ রান দিয়ে ১৩ উইকেট জায়গা করে নেয় লিমকা বুক অব রেকর্ডসে। সুযোগ চলে আসে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। ধীরে ধীরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও জায়গা করে নেন।২০১৮ সালের এশিয়া কাপে যশস্বী ছিলেন সর্বাধিক ৩১৮ রান সংগ্রাহক। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তার ২২০ বলে ১৭৩ রানের ইনিংস অনূর্ধ্ব-১৯ দলে তার জায়গা পাকা করে দেয়।

গত মৌসুমে ভারতের ঘরোয়া রঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে অভিষেক ঘটে যশস্বীর। এবারের বিশ্বকাপে তার পরিণত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে যে, এই পারফর্মেন্স দিয়ে যশস্বী ভারতীয় সিনিয়র দলে কড়া নাড়তে পারেন। ডোপিংয়ের জন্য নির্বাসিত হওয়া পৃথ্বী শ যদি কিউয়িদের বিপক্ষে ব্যর্থ হন, তবে যশস্বীর জন্য সেটা হয়ে যাবে দুর্দান্ত সুযোগ।