ভাইরাসের বিরুদ্ধে মাস্ক কতটা কার্যকর ?

সাধারণত নতুন কোনো ভাইরাসের খবরে মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার বেড়ে যায়। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। চীনের পাশাপাশি সারাবিশ্বেই বর্তমানে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এ মাস্ক কতটা কার্যকর?

ভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে যে ভাইরোলজিস্টরা কাজ করেন, তারা মাস্কের কার্যকারিতা বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে হাত থেকে মুখে ভাইরাস ছড়ানো রোধ করতে সক্ষম মাস্ক। সে প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা।

বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার জন্য সার্জিকাল মাস্ক তেমন কার্যকর নয় উল্লেখ করে সেন্ট জর্জের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ড. ডেভিড ক্যারিংটন বিবিসিকে বলেন, ‘বাতাসেই তো ভাইরাস ছড়িয়েই পড়ে। এই মাস্কগুলো খুবই ঢিলেঢালা, কোনো এয়ার ফিল্টার নেই। আবার চোখটাও খোলা থেকে যায়। তবে এটা হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা রোধ করে। আর হাত থেকে মুখে ভাইরাস যাওয়া খানিকটা রোধ করবে।’

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের মলিকিউলার ভাইরোলজির অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, ‘এই ফেসমাস্কগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ইনফেকশন রোধে বেশ কার্যকর। নিজেই একটা বিশেষায়িত বায়ু পরিস্কারক হিসেবে কাজ করা শ্বাসযন্ত্র সম্ভাব্য বিপজ্জনক বাতাসে ছড়ানো উপাদানগুলো থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে।’

মাস্কের চেয়ে সাধারণ পরিচ্ছন্নতা মেনে চলাটাই বেশি কার্যকর মন্তব্য করে কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ওয়েলকাম-ওলফসর ইন্সটিটিউট ফর এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের ড. কর্নর বামফর্ড বলেন, ‘হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ঢাকা, হাত ধোয়া, হাত না ধুয়ে মুখে হাত না দেয়া ইত্যাদি নিয়ম মেনে চললেই শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।’