আরও বাংলাদেশি ছাত্র নিতে চায় জার্মানি

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জার্মান দূতাবাসে শিক্ষা বিষয়ক এক প্রেস কনফারেন্সে জার্মান শিক্ষা কর্মকর্তা কাতা লাস বলেন, বিদেশি ছাত্র আকর্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের থেকে পিছিয়ে রয়েছি আমরা। এর কারণও আছে। আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমরা ইংরেজি ভাষায় কোনও স্নাতক প্রোগ্রাম পড়াতে পারতাম না। কিন্তু এখন ১,৫০০ মাস্টার্স প্রোগ্রাম আছে যেগুলো ইংরেজি ভাষায় পড়ানো হয়।

তিনি বলেন, আমাদের পড়াশোনার মডেলটি ভিন্ন। যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলো পড়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করার মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক মডেল তৈরি করেছে। কিন্তু জার্মানিতে পড়াশোনা করতে দেওয়ার জন্য অর্থ আদায় করা হয় না। জার্মানিতে অত্যন্ত অল্প টাকায় উচ্চশিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং জার্মানিতে পোস্ট ডক্টরেট করা ছাত্র মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন বলেন, জার্মানিতে কম সংখ্যক বাংলাদেশি ছাত্র পড়তে যায় কারণ অনেকে জানে না যে সেখানে ইংরেজিতে পড়াশোনা করা যায়। এছাড়া অন্যান্য দেশে চাকরি পাওয়ার সুবিধা আছে। কিন্তু জার্মানিতে চাকরি পেতে গেলে জার্মান ভাষা জানতে হয়। তবে আমার সঙ্গে পড়াশোনা করেছে এমন অনেকে জার্মানিতে ভালো চাকরি পেয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ বলেন, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করতে চাই। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে ৭০টি জার্মান প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু বাংলাদেশের মতো বড় অর্থনীতির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ সংখ্যাটি অত্যন্ত কম।

তিনি বলেন, আগামি কয়েক বছর বাংলাদেশে ১২০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু এই অর্থ কোথা থেকে আসবে। স্থানীয় ব্যাংক থেকে এই পরিমাণ অর্থ যোগান দেওয়া সম্ভব না। স্টক মার্কেটের মাধ্যমে ১২০০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করাও সম্ভব নয়। সরকার অবশ্যই তহবিল যোগান দিচ্ছে কিন্তু এর বড় একটি অংশ বিদেশি বিনিয়োগ হিসাবে আসতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য দুর্নীতি, আইনগত পরিবেশ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।