সেই ১২ জনকে ধর্মান্তকরণ করেননি আজহারী!

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত মানুষটির নাম তুমুল জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তার সুমধুর কণ্ঠ আর যৌক্তিক ব্যাখ্যা তাকে মানুষের মনে জায়গা করে দিয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় তার একটি মাহফিলে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের ধর্মান্তকরণ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। পরিবারটিকে ধর্মান্তরিত করার ক্ষেত্রে জোর করা হয়েছে কিনা বা এটি সাজানো ঘটনা ছিল কিনা-এসব নানা প্রশ্নে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এরই মধ্যে জানা গেল ওই ১২ জন ভারতীয় ড. মিজানুর রহমান আজহারীর কাছে কালেমা পড়ে মুসলমান হননি। আজহারী তাদের কালেমা পড়াতে অপারগতাই জানিয়েছিলেন। তখন অন্য এক আলেমের মাধ্যমে কালেমা পড়ে ইসলামে দিক্ষিত হন তারা। ওই মাহফিলের আয়োজকদের অন্যতম মোহাম্মদউল্লাহ। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ‘ওই ১২ ভারতীয় ইসলামি বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর কাছে ধর্মান্তরিত হতে চেয়েছিলেন। আমরা তাদের আর্জি আজহারী সাহেবকে বলি। কিন্তু আজহারী সঙ্গে সঙ্গে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এটা খুশির খবর। কিন্তু দুঃখিত যে, ধর্মান্তরিত করার বিষয়ে আমি আপনাদের কোনো সহযোগিতা করতে পারব না।”‘ মোহাম্মদউল্লাহ আরও বলেন, ‘আজহারী প্রস্তাবটি না গ্রহণ করায় আমরা আরেকজন আলমকে দিয়ে ঐ পরিবারকে কালিমা পড়াই।’ মিজানুর রহমান আজহারী কেন এমন ধর্মীয় বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন প্রশ্ন করা হলে মোহাম্মদউল্লাহ বলেন, ‘কিছুদিন আগে আজহারীর এক মাহফিলে একজন হিন্দু নারী ইসলামের ছায়াতলে এসেছিলেন। কালেমা পড়তে ওই নারী স্টেজে উঠে আজহারীর নিকটবর্তী হন। বিষয়টি দৃষ্টিকটু বলে মনে হয়েছে অনেক আলেমের। পরে বিষয়টি নিয়ে কঠিন সমালোচনার শিকার হন আজহারী। তাই এমন বিষয় থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন আজহারী।’

ওই পরিবারটি যে ভারতীয় তা কি আজহারী জানতেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, আজহারী বা মাহফিলের আয়োজকরা তাদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে জানতেন না। পরিবারটির কর্তা মাহফিলের একদিন আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরদিন তারা এফিডেভিট এর কপিসহ আইনজীবী নিয়ে মাহফিলে এসেছিলেন। তাদের আইনজীবী ধর্মান্তরিত হওয়া সর্ম্পকিত সেই এফিডেভিট মাহফিলে পড়ে শোনান। তাদের তো জোর করে এখানে এনে ধর্মান্তরিত করা হয়নি। তাদের ইচ্ছাই ছিল যে, লক্ষাধিক জনতার সামনে ইসলাম গ্রহণ করবেন।’ মোহাম্মদউল্লাহর মতো সংবাদমাধ্যমকে একইরকম তথ্য দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার এ এইচ এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘কেউ তাদের জোর করে ধর্মান্তরিত করেছে, এমন তথ্য আমরা পাই নি। কেউ বাধ্য করলে তখন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’ তবে বিষয়টি ধর্মান্তরিত করণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় জানিয়ে পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, ‘তাদের ধর্মান্তরিত হওয়া না হওয়া আমাদের কাছে বিষয় ছিল না। তারা ভারতীয় নাগরিক হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ছিল এটাই আমাদের কাছে বড় বিষয়। সেদিকেই ফোকাস করেছি আমরা।’