অফারের নামে ইভ্যালির অভিনব প্রতা’রণা

সাইক্লোন, লণ্ডভণ্ড, দেশব্যাপী সবাইকে ১৫ নম্বর অফার সতর্ক সংকেত এমন ভয়ঙ্কর নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন। ইভ্যালির লোভনীয় এসব অফারে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই প্রতা’রণার শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ প্রি-অর্ডারের টাকা ফেরত নিয়েও শ’ঙ্কায় রয়েছেন।

দাম পরিশোধ করার পরও টিভি দেয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে অর্ডার বাতিল করতে। এমনই প্রতা’রণার শি’কার হয়েছেন সোহাগ নামের এক ব্যক্তি। পেশায় তিনি একজন ডাক্তার। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তা অধিকারে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির নামে অভিযোগও করেছেন তিনি। ইভ্যালির বিরুদ্ধে এরকম প্রতারণার অভিযোগ করেছেন আরো অনেক গ্রাহক।

পণ্য অর্ডার করে বিপাকে পরেছেন নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে এক ক্রেতা। কোনো রকম অফার ছাড়াই অর্ডার করেছেন রিয়েলমি এক্স ২ মডেলের একটি স্মার্টফোন। ফোনটির মূল্য ২২ হাজার ৫০০ টাকা।

অর্ডারের এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো প্রকার সুখবর না পেয়ে ‘ইভ্যালির’ সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে পরেছেন বিড়ম্বনায়। করা হয়নি হেল্প লাইন থেকে কোন সহায়তা। ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের হোয়াটস অ্যাপে নক দিয়েও কোন সমাধান আসেনি। ২২ হাজার টাকার ফোন ২২ হাজার ৫শ টাকায় অর্ডার করেও ভোগান্তির শি’কার হয়েছেন তিনি।

অপর ভুক্তভোগী অনিক বিশ্বাস জানান, ইভ্যালিতে অর্ডার করেছিলেন দুইটি শীতের টুপি। মাত্র ৬০০ টাকা নিয়েও প্রতারণা করা হয়েছে তার সঙ্গে। যে মানের টুপি তাকে দেয়া হয়েছে সেটি একদম নিম্নমানের। যার মূল্য মাত্র ১৫০ টাকা। এর সঙ্গে টুপির বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র ছিল। ইভ্যালির ফেসবুক পেজে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এছাড়া এস ডি বাপ্পি নামে আরেক ভুক্তভোগী ইভ্যালির ১৬ টাকায় মোবাইল ফোন দেয়ার অফারে প্রতারণার শি’কার হয়েছেন বলে জানান।

এরই মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের এমন অফারের নামে কোনো ক্রেতা হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে অভিযোগ করুন। আমাদের কাছে অভিযোগ করলে তদন্তে প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না।