করোনা ভাইরাসে সাড়ে ৬ কোটি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়ে বলেছিলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে লাখো মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন। চীনে ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের তিন মাস আগে তারা এই সতর্কতা দিয়েছিলেন। তবে এই আশঙ্কা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেল্থ সিকিউরিটির বিজ্ঞানীরা গত অক্টোবরে গবেষণার অংশ হিসেবে একটি কম্পিউটার সিমুলেশন মডেলে একটি অনুমানমূলক মহামারীর চিত্র পান।

কম্পিউটার সিমুলেশনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাড়ে ৬ কোটি মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন।

এখন পর্যন্ত দাপ্তরিক হিসেব অনুযায়ী ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণে ৪১ জন মারা গেছে এবং ১২শ’র বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যিকার সংখ্যা আরো হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

জন হপকিন্সের একজন জ্যেষ্ঠ গবেষক ড এরিক টোনার বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষে উহান শহরে যখন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় তাতে তিনি মোটেও অবাক হননি।’

তিনি বিজনেস ইনসিডারকে বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরে চিন্তা করেছি যে সবচেয়ে সম্ভাব্য ভাইরাস যেটি একটি নতুন মহামারী আকার নিতে পারে সেটি হতে পারে করোনা ভাইরাস।’

‘আমরা এখন পর্যন্ত জানি না কতটা সংক্রামক এটা। আমি জানি এটা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে, কিন্তু জানি না যে কীভাবে এর সংক্রমণ ঘটছে।’

‘একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হল এটা সার্সের (SARS) থেকে কিছুটা নমনীয়। এটা একটা ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে, কমপক্ষে কমিউনিটি সেটিংয়ে এটার সংক্রমণযোগ্যতা সার্সের থেকেও বেশি।’

করোনা ভাইরাস হল শ্বাসযন্ত্রের নালীর সংক্রমণ যা নিউমোনিয়া কিংবা সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগে পরিণত করতে পারে।

২০০০ সালের শুরুর দিকে চীনে সার্সে আক্রান্ত হন প্রায় ৮ হাজার এবং মারা যান ৭৭৪ জন।

ড. টোনারের কম্পিউটার সিমুলেশন বলছে, ছয়মাস পরে বিশ্বের প্রায় সবদেশেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। ১৮ মাসের মধ্যে মারা যেতে পারে সাড়ে ৬ কোটি মানুষ।

উহানের প্রাদুর্ভাব একটি মহামারী হিসেবে বিবেচিত হয় নি, তবে আরো ১০ টি দেশে সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জাপান, সাউথ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, হংকং, ম্যাকাও এবং নেপালে এ ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।