প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় বরখাস্ত হচ্ছেন জনতা ব্যাংকের এমডি

এনন টেক্স গ্রুপের ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় বর্তমান এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।আইন-কানুন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গ্রুপটির ঋণের অনুমোদন, বিতরণ এবং পরিবীক্ষণে সহায়তা করেছেন তিনি। তার প্রত্যক্ষ সহায়তায়ই ঋণপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানির নামে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে তাকে অপসারণের সুপারিশ করেছে । বিষয়টির চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার জন্য ব্যাংকিং রেগুলেশন ও পলিসি ডিপার্টমেন্টে রয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট । এখানেও তার সম্প্রিক্ততা উঠে এসেছে।

তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জনতা ব্যাংকে এনন টেক্সের ২২টি প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে কর্পোরেট শাখায় ২০টি এবং লোকাল অফিসে ২টি। ওইসব অ্যাকাউন্টে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রুপটির ঋণের স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন, বিতরণ, পরিবীক্ষণ এবং বারবার পুনঃতফসিলে অনেক গুরুতর অনিয়ম এবং জালিয়াতি হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত রিপোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অপসারণ যথেষ্ট নয়, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের অপরাধীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদ সোমবার নিজ কার্যালয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-কানুন মেনেই এনন টেক্সকে ঋণ দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সেজন্য আমি একা নই, অনেকেই দায়ী। তার মতে, এ ঘটনায় আরও অনেকের নাম আসা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এনন টেক্সের এই ঋণ জালিয়াতির সময় বর্তমান এমডি শাখা ম্যানেজার ছিলেন। এরপরও কীভাবে সরকার তাকে প্রমোশন দিয়ে এমডি পর্যন্ত নিয়ে আসে, তা বোধগম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য খারাপ সংবাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো তাকে অপসারণের সুপারিশ করবে। কিন্তু এ ঘটনায় অপসারণ যথেষ্ট নয়।এতে তিনি অপসারণের মাধ্যমে দায়মুক্তি পেয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, অর্থ জালিয়াতির জন্য তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ক্রিমিনাল কেস করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দুদকও এ কাজ করতে পারে। সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর বলেন, অভিযুক্ত এমডি অপসারণ এড়াতে বিভিন্ন তদবির করছেন। কিন্তু তদবির করে দায়মুক্তি পেলে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি আরও উৎসাহিত হবে।

তড়িঘড়ি করে হিসাব খুলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ব্যাংক কর্তৃক ঋণ অনুমোদন ও টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব কাজ করেছেন ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুছ সালাম আজাদ।