মামুনি, তোকে জন্ম দিয়েছি বলে ছাত্রদল আমাকে ত্যাজ্য করল

গতকাল ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি। কমিটিতে প্রথমবারের মতো বিবাহিত কাউকে স্থান দেয়া হয়নি। আংশিক কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তারা বেঁছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুককে।

কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন তার মেয়ে এবং তার একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সেই স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়েছে। তার সেই আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, মামনি আমি আল্লাহর ইচ্ছায় বৈধভাবে ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক তোমার মাকে বিয়ে করে তোমাকে জন্ম দিয়েছে। আর এই অপরাধে আমার প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমাকে আজ ত্যাজ্য করেছে।

আশরাফ জালাল খান মনন লিখেছেন, আমি চাইলে পারতাম তোমাদের অস্বীকার করে অনেকের মতোই সহ-সভাপতি কিংবা যুগ্ম সম্পাদক পদ নিতে। কিন্তু আমি তা করিনি। যখনই তুমি তোমার মায়ের পেটে ছিলে তখন ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বিএনপির আন্দোলনে চলে যেতাম। আর সারাদিন রাজনীতিতে সময় দিতাম। যার কারণে তোমার মা সব সময় আমার উপর রাগ করে থাকতো। একবার তুমি পেটে থাকা অবস্থায় দেশনেত্রীকে বিদায় দিয়ে গাড়িবহরে রোড এক্সিডেন্ট করি সুস্থ হয়ে যাই। কিন্তু তাতেও থেমে ছিলাম না।

মনন লিখেছেন, তোমার জন্মের তিন মাস পরেও আমি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলাম। তবু এক ফোঁটা ভয় পাইনি। বরং রাজনীতিতে আরও গতিশীল হয়েছিলাম। আজ দলের হাইকমান্ড মনে করেছে, এই দলে আমার আর কোন প্রয়োজন নেই। মামনি তুমি জানো তোমার জন্য কেনা দুধের অনেক টাকা আমি রাজনৈতিক আড্ডায় উড়িয়ে দিয়েছি। প্রেম ছিল ছাত্ররাজনীতি এখনও আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। মামনি ওরা জানে না তুমি আমার শক্তি ছিলে, তোমার মা ছিল আমার স্পিড, তোমার ফুপি ছিল আমার বুদ্ধি দাতা, আর তোমার দাদি ছিল আমার মূল শক্তি। অথচ এই দল মনে করে আমরা নাকি ছাত্র রাজনীতি করতে পারবোনা পিছুটানের জন্য?

মনন আরও লিখেছেন, জীবনে কতবার তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়নি শুধুমাত্র পার্টি অফিসের মিটিং হওয়ার জন্য। তুমি আর তোমার মা আমার জন্য বাঁধা না। তুমি আর তোমার মা আমার জন্য শুধুই অনুপ্রেরণা। এক রুমে বন্দি হয়ে আছি আর ভাবছি কি করব কিভাবে তোমাদের ফেস করব। তোমাদের যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনি এই দলটিকে ভালবাসি। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করল না।

এদিকে মননের এই স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। মুহাম্মদ তানভীর হাসান নামে একজন লিখেছেন, ভাই আপনার কষ্টটা হয়ত অনেক। কিন্তু আপনাদের মত নেতা-কর্মী আছে বলেই জিয়ার আদর্শ এখনো বেঁচে আছে। আর রাজনীতিতে পরাজয় বলে কোন শব্দ নেই। ত্যাগীদের মূল্য হাই কমান্ড না দিলেও কর্মীরা ঠিকই দেবে।

শামীম আলা নামে একজন লিখেছেন, বড় ভাই দুঃখ করবেন না। আমার ইতিহাস আপনার চেয়ে আরও বড়। কিছু বলতে চাই না। এখন আর পদ নিয়ে ভাবি না। আমার দুঃখ নেই পোস্ট পাইনি বলে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

ঘোষিত ৬০ সদস্যের এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আমিনুর রহমান আমিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেতা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন্দ্রীয় সংসদের এ আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছেন।