‘দেড় ঘণ্টা’ বাতাসে ভেসে ছিলেন রোনালদো!

আইজ্যাক নিউটন এই দৃশ্য দেখলে হয়তো আরও একবার নিজের খাতাপত্র বের করে হিসেব কষতেন। দেখে নিতেন মাধ্যাকর্ষণ নিয়ে যে তত্ত্ব তিনি দিয়েছেন, তা নির্ভুল কিনা! না হলে একজন মানুষ কী করে ‘মাধ্যাকর্ষণ’ বিষয়টিকে এভাবে ছুঁড়ে ফেলতে পারেন!

লোকটির নাম? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এই প্রথম নয়, আগে বহুবার প্রতিপক্ষ বক্সে তিনি হানা দিয়েছেন এমন লম্বা লাফে, যা হাঁ করে দেখা ছাড়া উপায় থাকে না। গত বুধবার রাতে সেই কাজটাই আরও একবার করেছেন।

মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে ব্রাজিলের লেফটব্যাক অ্যালেক্স সান্দ্রোর একটা ক্রস উড়ে এল। একটু উঁচু হয়েই এল। সেই উঁচু হয়ে আসা ক্রসটায় মাথা লাগানোর জন্য রোনালদো ডি-বক্সের মধ্যে একটা লাফ দিলেন।

সঙ্গে সঙ্গে সময় থেমে গেল যেন। থেমে গেল পদার্থবিদ্যার স্বাভাবিক সকল সূত্রের কার্যকারিতা। বাতাস বন্ধ হয়ে গেল। দেড় সেকেন্ড সময়কে মনে হলো দেড় ঘণ্টার কাছাকাছি। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বুঝি একেই বলে!

পাক্কা দেড় সেকেন্ড বাতাসে ভেসে থাকলেন রোনালদো। লাফ দিলেন ঝাড়া ২.৬ মিটার। পাশে তাঁকে মার্ক করা সাম্পদোরিয়ার ডিফেন্ডার নিকোলাস মুরু কে মনে হলো ওয়াল্ট ডিজনির ‘স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস’ এর একটা বামন চরিত্র।

এই বিশাল লাফটা দিয়েই সান্দ্রোর ক্রসটাকে বশে আনলেন রোনালদো। আর তাতে হেড করার কাজটাকে পানি-ভাতের মতো সহজ বলেই মনে হলো। ব্যস, ২-১ গোলে এগিয়ে গেল জুভেন্টাস!

সেই ২-১ স্কোরলাইন নিয়েই ম্যাচ শেষ করেছে তারা। তাঁর আগে ১৯ মিনিটে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার পাওলো দিবালার গোলে এগিয়ে যাওয়া জুভেন্টাসের সঙ্গে সাম্পদোরিয়া সমতায় ফিরেছিল ৩৫ মিনিটে। দিবালা নিজে ভাগ্যকে দুষতেই পারেন। রোনালদো ওই ম্যাজিকটা না দেখালে তিনি নিজে যে গোল করেছেন সেটা নিয়েই তো মাতামাতি হতো! ওই অ্যালেক্স সান্দ্রোর আরেকটা ক্রসকে বশ মানিয়ে বাঁ পায়ের যে জোরালো ভলিতে গোলটা করলেন, তাঁর ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা গোল হয়ে থাকবে সেটা।