৯৯ কোটি টাকার চেক পেলেন মুন সিনেমা হলের মালিক

ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিক ও ইটালিয়ান মার্বেল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম। সময়মতো চেক পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া আগামীকাল সম্ভব না হলে ৫ জানায়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আজ (মঙ্গলবার) মাকসুদুল আলমকে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সার চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একই সাথে আগামীকালের (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকুলে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। যদি সম্ভব না হয় তাহলে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন বুঝিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।

১৯৭১ সালে মুন সিনেমা হল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে মালিকানা দাবি করে ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টে রায় পক্ষে যাওয়ার পর আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে তা বহাল রাখেন।

একইসঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল বাংলাদেশ ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডকে ফেরত দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন।

কিন্তু মাকসুদুল আলম তার জমি না পেয়ে ২০১২ সালে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায় মুন সিনেমা হল আগের অবস্থায় ফেরত দেওয়ার কোনো উপায় নেই। ওই জমির মূল্য ও মুন সিনেমা হলের মূল স্ট্রাকচারের (কাঠামো) মূল্য ধরে এর মালিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন বলে। এরপর ২০১৭ সালে আদালত মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দেশ দেন।

সে অনুসারে মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে আপিল বিভাগ ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি এক আদেশে ক্ষতিপূরণসহ ভবন ও জমির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেন।

একই বছরের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এ টাকা তিন কিস্তিতে পরিশোধ করতে বলা হয়। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি, এর পরের দুই মাসের মধ্যে আরো ২৫ কোটি এবং বাকী টাকা ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে আরও সময় চায় রাষ্ট্রপক্ষ।