হেরোইনের টাকা জোগাড় করতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা

সাংবাদিক পরিচয়ে ২ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি কর্মকতাদের ফোন করে প্রতিবেদন প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন শিবলু (৩৮) এবং সোহাগ (৩৯)। এ পর্যন্ত তারা অর্ধশতাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছেন।

কিন্তু গত শুক্রবার একটি দৈনিকের সিনিয়র এক্সিকিউটিব এবিএম সিদ্দিকের দায়ের করা এক মামলায় তারা ধরা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহাদাত হোসেন সুমার নেতৃত্বাধীন একটি দল।

সূত্রে জান যায়, তাদের ছয়জনের একটি গ্রুপ আছে। সবাই একসঙ্গে হোরোইন সেবন করেন। এজন্য দিনে ৫-৭ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়।আর টার্গেট করা সরকারি ব্যক্তিকে ফোন করলে অযথা ঝামেলা এড়াতে সাধারণ ৫-১০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। ফোন করার আগে তারা বিভিন্ন সরকারি দফতরের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্র্তাদের নম্বর সংগ্রহ করেন। গ্রেফতারকৃতরা ডিবিকে জানান, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তাদের ব্যবসা ছিল খুবই ভাল। টার্গেট করে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ফোন দিলেই তারা টাকা পাঠিয়ে দিতো।

তারা প্রকৌশলী, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, যুগ্মসচিব, উপসচিব এবং পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিসহ অনেকের কাছ থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, লক্ষীপুরের গোডাউন ইনচার্জ রামিম পাঠান, লক্ষীপুরের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নান্নু, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আরজুল হক, সিলেট এলজিএডির নির্বাহী প্রকেৌশলী এসএম মহসীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আমিনুল হক প্রমুখ।

সূত্রঃযুগান্তর