সবার সামনেই মিয়ানমারের বক্তব্যকে ‘ফ্রড’ বলল গাম্বিয়া

প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের পর নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) তৃতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শুনানির শেষ দিনে বিকেলে প্রথমে গাম্বিয়া যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে এবং এরপরে মিয়ানমার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।

এদিকে শুনানির তৃতীয় দিনেও সূচির বিপক্ষে গাম্বিয়ার দৃঢ় অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন সময় দেশটির এজেন্ট আদালতকে বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এক ধরনের প্রতারণা। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য রাখাইনের পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সক্ষম কিন্তু অনিচ্ছুক’।

গাম্বিয়ার আইনজীবী রাইখলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য ‘ফ্রড’ বলেও অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার নিজেই স্বীকার করেছে যে খুব সামান্য সংখ্যায় উদ্বাস্তু ফিরেছে। রাখলার বলেন, মিয়ানমারের আইনজীবী ওকোয়া প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ এবং চীন, জাপান ও ভারতের সহায়তার বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ দেশগুলো প্রত্যাবাসন চায়। কিন্তু প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের। মিয়ানমার সেটি পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

যদিও গতকালের শুনানিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তার দেশের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, গাম্বিয়া রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিমূলক চিত্র তুলে ধরেছে। রাখাইনে ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানে রক্তপাত হলেও গণহত্যার মতো কিছু হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনী হয়তো মাত্রাতিরিক্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ করে থাকতে পারে’ ।