স্বামীর কাছে দেনমোহর হিসেবে কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই চাইলেন স্ত্রী

ইসলামে, বিবাহ হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। ইসলামে কনে তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে। একটি আনুষ্ঠানিক এবং দৃঢ় বৈবাহিক চুক্তিকে ইসলামে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বর ও কনের পারষ্পারিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণ করে।

তেমনি নগদ অর্থ নয়, সোনার গয়নাও নয়, না কোন ব্যাংক ব্যাল্যান্স। নব-বিবাহিত স্বামী যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করে তার প্রতিশ্রুতি দিলে আর কিছু চায় না তার। এমনই এক অভিনব দেনমোহরের বিনিময়ে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তানে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগেও এমন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে একটি সূরা মুখস্ত করাকে বিয়ের দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কন্যার পক্ষ থেকে। সেই হিসেবে এই বিয়ে অভিনব না হলেও অনেকের জন্য তা অনুকরণীয় অবশ্যই হতে পারে। সে হিসেবে পাকিস্তানের টিভি সিরিয়ালের অভিনেত্রী ইয়াসরা (৩৪) তার বিপরীতে গিয়ে তার চেয়ে ১০ বছর কম বয়সী হাদিকে বিয়ে করতে সম্মতি জানিয়ে এই দেনমোহর দাবি করেন। হাদি বর্তমানে এমবিবিএস-এর থিসিস নিয়ে ব্যস্ত। তাই স্বামীকে অহেতুক অর্থের জন্য চাপ না দিতে ইয়াসরার এমন সিদ্ধান্ত।

এমন পরিস্থিতিতে ইয়াসরা-হাদির এমন অভিনব বিয়ে প্রশংসাযোগ্য। অতি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইয়াসরা বলেন, নামাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। নামাজ আমাদের পাপ কাজ থেকে বাঁচায়। এ জন্য আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিশ্রুতি চেয়েছি।

উল্লেখ্য, ইসলামী শরিয়তে বিয়ের সময় পাত্রীর পক্ষ থেকে পাত্রের কাছে তার সামর্থ্য অনুসারে দেনমোহর দাবি করা হয় যা বাসর রাতের আগে পরিশোধ করে দেয়া বাধ্যতামূলক। পাত্রের পক্ষ থেকে কিছু আদায় করার অনুমতি নেই। যদিও বর্তমানে বরপক্ষ কনেপক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা, আসবাবপত্র, বিলাসবহুল সামগ্রী দাবি করে। অন্যদিকে কনেপক্ষ থেকেও বিশাল অংকের দেনমোহর দাবি করা হয় যা পরিশোধ করা পাত্রের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠে।